আসামে নাগরিকত্ব সংকট কোন দিকে গড়াচ্ছে?

20

ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর ভারতের আসাম রাজ্যে চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) গত শনিবার প্রকাশ করা হয়েছে। এ তালিকায় তিন কোটি ১১ লাখ মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাদ পড়েছে ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭। তালিকা থেকে বাদপড়াদের মধ্যে প্রায় সবাই বাঙালি। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মুসলমান; হিন্দু ধর্মাবলম্বীও রয়েছেন অনেকে। যারা এখন নাগরিকত্ব হারিয়ে রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়লেন। চার বছর ধরে যাচাই-বাছাইয়ের পর রাজ্য সরকার চূড়ান্ত এ তালিকা প্রকাশ করেছে। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন তিন কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ। খসড়া তালিকায় বাদপড়াদের এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৪১ লাখ। চূড়ান্ত তালিকায় তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এটা আসামবাসীর জন্য স্বস্তিদায়ক। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তালিকায় স্থান পেতে আসামের বাসিন্দাদের প্রমাণ করতে হয়েছে যে তাদের পূর্বপুরুষদের নাম ১৯৫১ সালের এনআরসিতে বা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের আগের কোনো ভোটার তালিকায় ছিল। শর্ত অনুযায়ী কাগজপত্রের ব্যবস্থা করতে বাসিন্দারা চরম হিমশিম খান। অনেকে কাগজ হারিয়ে ফেলায় প্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ হন। ফলে তালিকা থেকে ছিটকে পড়েন। বাদপড়াদের নাম তালিকাভুক্ত করতে হলে অবশ্যই সেগুলো প্রমাণ করতে হবে। তালিকায় নাম না থাকা অনেকেই মনে করছেন- ‘অবৈধ’ হওয়ার কারণে তাদের যে কোনো সময় আসাম তথা ভারত থেকে বের করে দেয়া হবে। এমন ভাবনা স্বাভাবিক। মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খসড়ায় বরাক এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বাঙালিদের নাম কম ওঠায় তাদের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯ লাখ মানুষ তালিকার বাইরে থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ এখনো আছে। তালিকায় নাম না থাকা নাগরিকদের ১২০ দিনের মধ্যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে বলা হয়েছে। এ সময়সীমা আগে ছিল ৬০ দিন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে শুনানির জন্য রাজ্যজুড়ে এক হাজার ট্রাইব্যুনাল গড়ে তোলা হবে। এরই মধ্যে ১০০ ট্রাইব্যুনাল খোলা হয়েছে। আরো ২০০টি ট্রাইব্যুনাল চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই খোলা হবে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এটাও জানানো হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে মামলায় হেরে যান, তিনি হাইকোর্টে যেতে পারবেন। সেখানে হারলে তিনি সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থও হতে পারেন। এমতাবস্থায় ভারত সরকার তার অবস্থান স্পষ্ট করেই জানিয়েছে এবং সে অবস্থান বিবেচনায় বাংলাদেশের উদ্বেগের কিছু নেই। তবে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বক্তব্য বিবেচনায় নিলে আসামের নাগরিক তালিকা নিয়ে উদ্বেগের একটা কারণ থেকেই যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিজেপির শীর্ষ নেতারা যেভাবে এ ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টানছেন, তালিকায় বাদপড়াদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আখ্যায়িত করছেন, সেটা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে আসামে নাগরিকত্ব সংকটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে গড়াবে? বাংলাদেশ সরকারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত।