আল্লাহ ক্ষমাশীলদের ভালোবাসেন

14

ধর্ম প্রতিবেদন:
ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। এটি প্রকৃত মুমিনদের বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ ক্ষমাশীলদের ভালোবাসেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা মানুষকে ক্ষমা করে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪) আল্লাহর রাসুল (সা.) ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তাঁর ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ হলে তিনি তার প্রতিশোধ নিতেন না। বরং ক্ষমা ও ভালোবাসার মাধ্যমে তাকে কাছে টেনে নিতেন। হজরত আনাস (রা.) বলেন, আমি নবীজির সঙ্গে হাঁটছিলাম। তাঁর পরনে ছিল একটি নাজরানি (ইয়েমেনি) চাদর, মোটা কাপড়বিশিষ্ট। এক বেদুইন তাঁর কাছে এসে সেই চাদর ধরে সজোরে টান দিল। আমি দেখলাম মোটা কাপড়ের ঘষায় নবীজির কাঁধে দাগ বসে গেল। লোকটি কর্কশ স্বরে তাঁকে বলল, ‘আল্লাহর যে মাল তোমার কাছে আছে তা থেকে আমাকে কিছু দিতে বলো!’ নবীজি (সা.) লোকটির দিকে ফিরে তাকালেন এবং মুচকি হাসলেন। এরপর তাকে কিছু দেওয়ার আদেশ করলেন। (বুখারি, হাদিস : ৩১৪৯)
কারণ পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ক্ষমাশীলতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়েছেন। মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে দ্বিনের দিকে আকৃষ্ট করার আদেশ দিয়েছেন। মূর্খদের থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন এবং মানুষকে ভালো বিষয়ের আদেশ করুন। আর মূর্খদের উপেক্ষা করুন।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৯৯)
আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) মহান আল্লাহর এই বাণী ‘আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন’ সম্পর্কে বলেন, রাসুল (সা.)-কে মানুষের চারিত্রিক দুর্বলতা ক্ষমা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৮৭) এই আয়াত শুনে ওমর (রা.)-ও কঠিন রাগ নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমাশীলতার পথই অবলম্বন করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, উয়াইনাহ ইবনে হিসন ইবনে হুজাইফাহ এসে তাঁর ভাতিজা হুর ইবনে কাইসের কাছে অবস্থান করলেন। ওমর (রা.) যাদের পার্শ্বে রাখতেন হুর নামক ব্যক্তি ছিলেন তাদের একজন। কারি, যুবক-বৃদ্ধ সবাই ওমর ফারুক (রা.)-এর মজলিসের সদস্য এবং উপদেষ্টা ছিলেন। এরপর উয়াইনাহ তাঁর ভাতিজাকে ডেকে বলেন, এই আমিরের কাছে তো তোমার একটা মর্যাদা আছে, সুতরাং তুমি আমার জন্য তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে দাও। তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি তাঁর কাছে আপনার প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করব।