আল্লাহমুখিতায় অভাব দূর হয়

14

ধর্ম প্রতিবেদন:
মানুষের জীবনে ধন-সম্পদ একটি ক্ষণস্থায়ী বিষয় হলেও জীবনাচারের জন্য সম্পদের প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রেখেই ইসলাম মানুষকে হালাল রিজিক অর্জনে সন্ধানী হতে বলেছে। হাত গুটিয়ে না রেখে কাজ করতে বলা হয়েছে। অন্যের কাছে হাত পাতাকেও ইসলাম নিষেধ করেছে। অভাব-অভিযোগের সময় চেষ্টা-তদবিরের পাশাপাশি অভাব মেটানোর প্রয়োজন আল্লাহতায়ালার কাছে বেশি বেশি দোয়া করার কথাও বলা হয়েছে। কারণ, আল্লাহ মানুষের প্রার্থনা কবুল করেন। অন্যদিকে তিনিই মানুষের রিজিকদাতা এবং অসীম ক্ষমতাবান। এসব বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব।’ -সূরা আল মুমিন: ৬০ উল্লেখিত আয়াতে আল্লাহতায়ালা মানুষের প্রয়োজন পূরণের জন্য দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি সেই দোয়া মঞ্জুর করার জিম্মাদারিও নিয়েছেন; যতক্ষণ না সেই দোয়া গ্রহণের পথে কোনো অন্তরায় না পাওয়া যায়। যেমন-ওয়াজিব বর্জন করা, কোনো হারাম কাজে জড়ানো, হারাম খাবার-পরিচ্ছদ গ্রহণ ইত্যাদি। তবে প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রে দোয়া করার সময় আল্লাহতায়ালার দরবারে কাকুতি-মিনতিসহকারে বলতে হবে, ‘হে আল্লাহ, আপনি আমাকে রিজিক দান করুন, কারণ আপনি সর্বোত্তম রিজিকদাতা। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে হালাল রিজিক চাই। হে আল্লাহ, পৃথিবীর সব মানুষকে দান করলেও আপনার ভা-ার ফুরাবে না; আপনি সেই ভা-ার থেকে আমাকে সামান্য কিছু দান করুন। হে মাওলা, আমাকে হালাল রুজি কামাই করার শক্তি দিন। হারাম থেকে দূরে রাখুন। আপনার দয়া দান করুন। হে আল্লাহ! আমার রিজিকে বরকত দিন। আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে কবুল করুন।’ আমাদের মনে রাখতে হবে, অভাবের সময় মানুষের শরণাপন্ন না হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে হবে। তার শরণাপন্ন হতে হবে, তার কাছে চাইতে হবে। তবেই মানুষের যাবতীয় অভাব-অনটন দূর হবে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অভাবে পতিত হয়, অতঃপর তা সে মানুষের কাছে সোপর্দ করে (অভাব দূরীকরণে মানুষের ওপর নির্ভরশীল হয়), তার অভাব মোচন করা হয় না। পক্ষান্তরে যে অভাবে পতিত হয়ে এর প্রতিকারে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হয় তবে অনতিবিলম্বে আল্লাহ তাকে ত্বরিত বা ধীর রিজিক প্রদান করে থাকেন।’-তিরমিজি