আল্লমা শফীর ইন্তেকালে জাতি শোকাহত

25

দেশের এ ক্ষতি অপূরণীয়
বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, দেশের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহত্তম ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাটহাজারী কওমি মাদরাসার প্রধান এবং হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী আর নেই। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত শুক্রবার ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর। বেশ কিছু দিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শুক্রবার বিকেলে উন্নত চিকিৎসার্থে তাকে চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে। সেখানে সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শাহ আহমদ শফীর ইন্তেকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক জ্ঞাপন করেছেন। এমন একজন প্রবীণ ও প্রখ্যাত ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ইন্তেকালে পুরো দেশ আজ মর্মাহত, দেশবাসী শোকার্ত। আমরাও তাঁর ইন্তেকালে গভীর মর্মবেদনায় জনগণের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি।
আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জন্ম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াতে। তিনি একাধারে চার বছর অধ্যয়ন করেন বিশ্বের খ্যাতনামা মাদরাসা দারুল উলুম দেওবন্দে। ১৯৪৬ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্বদিন পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৭৪ বছর তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারী মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার মতো বৃহৎ ও সুপ্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৮৬ সাল থেকে ছিলেন এর মহাপরিচালক এবং পরে শায়খুল হাদিস। ২০০৮ সালে আহমদ শফী নির্বাচিত হন কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। তিনি দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল হাইয়াতুল উল্ইয়া লিল জামিয়াতুল কওমিয়ারও প্রধান ছিলেন। রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ শোক বার্তায় বলেছেন, ‘আল্লামা শফী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন দেশ-বিদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসারে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদকে হারিয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী তাঁর শোকবাণীতে বলেন, ইসলামী শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে মরহুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শাহ আহমদ শফীর মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। দেশের বহু সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শাহ আহমদ শফীর ইন্তেকালে গভীর শোক জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন। তাদের শোক প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। অনেকে উল্লেখ করেছেন, মরহুম আহমদ শফী ছিলেন দেশের আলেম সমাজসহ তৌহিদি জনতার প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি আজীবন ইসলামের সেবা করেছেন। ইসলামী শিক্ষার প্রতিষ্ঠা ও বিস্তারে দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি রেখেছেন প্রধান ভূমিকা। তাকে দেশবাসী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। আহমদ শফীর মৃত্যুজনিত শূন্যতা সহজে পূরণ হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরবি ভাষায় একটি প্রবচন আছেÑ ‘মওতুল আলেমে মওতুল এলেম’ (জ্ঞানীর মৃত্যু মানে, জ্ঞানের মৃত্যু)। প্রকৃত আলেমদের সুউচ্চ মর্যাদার দিকেই এ কথা দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে। আমরা আশা করি, আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা দুঃসাধ্য হলেও তা পূরণের জন্য জাতি চেষ্টা চালাবে ইসলামী শিক্ষা, তথা আল কুরআন ও সুন্নাহর মহান আদর্শ কায়েমের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সেটিই হবে তার প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধার নিদর্শন।