আলমডাঙ্গা বন্দরভিটার সুমনের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ!

125

প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় প্রেমিকের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে এ অভিযোগ তোলেন দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। ধর্ষণের ঘটনায় আলমডাঙ্গায় একটি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে ওই স্কুলছাত্রী।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গার ভাঙবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রীকে (ভোকেশনাল) প্রেম নিবেদন করে আসছিল পাশ্ববর্তী বন্দরভিটা গ্রামের মুন্নাফ আলীর ছেলে সুমন। সুমনের বোন ওই ছাত্রীর চাচাত ভাই বিপ্লবের স্ত্রী। আত্মীয়তার সুযোগে সুমন অবাধে তার দুলাভাই বিপ্লবের বাড়িতে আসা-যাওয়া করত। বিপ্লব ও তার মা সুমনের সাথে প্রেমে উৎসাহিত করে তুলত ওই স্কুলছাত্রীকে। এতে স্কুলছাত্রী কিছুতেই রাজি হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্কুলছাত্রীর অনিচ্ছায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিপ্লব ও তার মা সুমনকে বাঁকা পথে পরিচালিত করে। গত ২৯ জুন সন্ধ্যার আগে ছাত্রীকে অনেক বুঝিয়ে সুমনের সাথে মোটরসাইকেলে মাঠের রাস্তায় ঘুরতে পাঠায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুমন ছাত্রীকে নিয়ে পোলতাডাঙ্গা-মহেশপুর গ্রামের মাঝের নির্জন রাস্তায় নিয়ে যায়। মাঠের নির্জন জায়গায় গিয়ে মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। ছাত্রী বাঁধা দিলে তাকে মারধরও করা হয়। এ সময় জোর করে রাস্তার পাশের পাট ক্ষেতে ছাত্রীকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে সুমন। নির্জন রাস্তায় মোটরসাইকেল দেখে পথচারী মহেশপুর গ্রামের আশকার ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় পাশের পাট ক্ষেত থেকে মেয়ে কণ্ঠের কান্না শুনে ধরে ফেলেন আশকার। ধরা পড়ার পর সুমন আশকারকে মারধর করে দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে মোবাইল করলে আত্মীয়-স্বজন এসে মাঠ থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
স্কুল ছাত্রীর ভাই সুজন জানান, ‘গত দুদিন ধরে বিপ্লব ও গ্রামের কয়েকজন লোক থানায় মামলা না করতে চাপাচাপি করতে থাকে। কিন্তু ছাত্রীটি দৃঢ়তা নিয়ে গতকাল বুধবার বিকেলের দিকে থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছে।’
এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবীর বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটির মধ্যে অন্য কিছু আছে। তদন্ত চলছে, যদি ঘটনার সত্যতা পাই তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’