আলমডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতির বেপরোয়া লুটপাট: অসহায় জনগন

335

আলমডাঙ্গা অফিস: বেপরোয়া আলমডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতির হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। জেলার শীর্ষ জনপ্রতিনিধিদের নাম ভাঙ্গিয়ে দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ লুটপাট অব্যাহত রেখেছে। তাদের অবৈধ চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জমি বিক্রেতা-ক্রেতা কৃষক সাধারন। বেশ কয়েক মাস পূর্বে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ আলমডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতির ভেঙ্গে দেন। দলিল লেখক সমিতির বেসুমার লুটপাট থেকে জমি ক্রেতা-বিক্রেতা উপজেলার হাজার হাজার কৃষক সাময়িক নিষ্কৃতি পেলেও আলমডাঙ্গায় আবার শুর” হয়েছে দলিল লেখক সমিতির চাঁদাবাজির মহোৎসব। সরকারি আইন ও বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে দিন দুপুরে সকলের সামনেই চলছে এ উন্মুক্ত লুটপাট। খোদ উপজেলা চত্ত্বরে বসেই সমিতির কতিপয় নেতা কৃষকদের গলার উপর পা তুলে দিয়ে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। ভূক্তভোগিরা তাই আলমডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতির নাম দিয়েছেন – গলাকাটা সমিতি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলিল রেজিস্ট্রি করতে সরকারকে পৌরসভা এলাকায় প্রতি লাখে শতকরা ১০ ভাগ হারে রাজস্ব অর্থাৎ লাখে ১০ হাজার টাকা রাজস্ব জমা দিতে হয়। এছাড়া দলিল প্রতি এনসি ২৪০ টাকা, ই ফিস ১ শ টাকা ও হলফনামা ২ শ টাকা মোট সাড়ে ৪ শ টাকা দিতে হয়। জমি পৌরসভার বাইরে হলে শতকরা ৯ ভাগ হারে রাসজস্ব দিতে হয়। কিন্তু বেআইনীভাবে গঠিত এই সমিতি সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে পৌরসভা এলাকায় প্রতি লাখে ১৬ হাজার ও ইউনিয়নে নিচ্ছে ১৫ হাজার করে আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আলমডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সপ্তায় ২ দিন জমি রেজিস্ট্রি হয়। তিদিন গড়ে ১শ ৩০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে বলে রেজিস্ট্রি অফিসসূত্রে জানা গেছে। সে হিসেব মতে প্রতি সপ্তায় আলমডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতি অবৈধভাবে গড়ে ১৩ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতি মাসে ৫২ লাখ টাকা দলিল লেখক সমিতি ভাগাভাগি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রসিদবিহীন এই টাকা কোনো ব্যাংক একাউন্টে রাখা হয় না এবং সাধারণ সদস্যদেরও কোনো হিসাব দেয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। আলমডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন ও সম্পাদক আজিবর রহমান কয়েকজনসহ এই বিরাট অংকের টাকা প্রতিমাসে ভাগ বাটোয়ারা করেন বলে অভিযোগকারিরা জানিয়েছেন। কয়েকজন দলিল লেখক জানান, তাদের কাছ থেকে সেরেস্তা খরচ আদায় করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন খাতে অফিসারকে দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা লোপাট করা হয়। অভিযোগ উঠেছে দীর্ঘদিন ধরে নির”পায় হয়েই এ টাকা দিতে হচ্ছে জমির মালিক নিরীহ কৃষকদের। লেখক সমিতিকে চাঁদা না দিলে জমি রেজিষ্ট্রি করা হয় না। যা ভোক্তা সংরক্ষন আইনের পরিপন্থি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আইনজ্ঞ জানান, ভোক্তা সংরক্ষণ আইনে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইচ্ছা করলে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে জেল জরিমানা করতে পারেন। কিন্তু হরিণাকুন্ডুর ক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে। কয়েক যুগ ধরে দলিল লেখকদের এই চাঁদাবাজীতে জমির মালিকরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।