আলমডাঙ্গায় লো-ভোল্টেজে অতিষ্ঠ জনজীবন

35

ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও লো-ভোল্টেজে অতিষ্ঠ গ্রাহকেরা। বর্তমানে সরকার চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পরিসেবা প্রদান করলেও শ্রাবণের এই ভ্যাপসা গরমে লো-ভোল্টেজের কারণে বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ভ্যাপসা গরমে নিশ^াস বন্ধ হওয়ার উপক্রম, তারপর বিদ্যুৎ থাকলেও ঘুরছে না ফ্যানের পাখা। এ কারণে বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে বাসাবাড়িতে ফ্রিজে রাখা শিশুর খাদ্যসহ মাছ-মাংস ও কাঁচা তরকারি। এ ছাড়াও দেখা যাচ্ছে, যতক্ষণ বিদ্যুৎ থাকে, সে সময়ে লো-ভোল্টেজ থাকায় বিদ্যুৎ নির্ভরশীল ব্যাংক-বীমা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রাহকেরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। এতে করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে তাঁদের। লো-ভোল্টেজের কারণে বাসাবাড়িতে মোটরের পানি না ওঠায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
ব্যাংক-বীমা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের মাধ্যমে তাঁদের প্রয়োজনীয় জরুরি কাজ সারতে দেখা গেছে। এতে করে শব্দ দূষণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাটের দোকানে আসা গ্রাহকেরা সময় মতো কাজ করতে না পেরে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ছেন। নষ্ট হচ্ছে তাঁদের মূল্যবান সময়।
ওয়েল্ডিং কারখানাগুলোতেও লো-ভোল্টেজের কারণে সময়মতো কাজ ডেলিভারি দিতে না পারায় গ্রাহকদের কাছে শুনতে হচ্ছে মন্দকথা। এ সমস্যা দেখা দিয়েছে গত প্রায় দুই মাস যাবৎ। গত কয়েক দিন দিনের বেলায় শুরু হয় লোডশেডিং, এ যেন নিত্যদিনের রুটিন। ঠিক যেন বিমাতাসুলভ আচরণ করছে আলমডাঙ্গা ওজোপাডিকো জোনাল অফিস। দীর্ঘ সময় লো-ভোল্টেজ থাকার কারণে বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার বিঘœ ঘটছে।
সরকারি একজন কর্মচারী বলেন, আজ প্রায় ২০ দিন যাবৎ লো-ভোল্টেজের কারণে অফিসের কম্পিউটার ওপেন করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বাজারে এসে সারতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তাদের মধ্যে যেন দায়সারাভাব দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ অফিসের একজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী জানা যায়, এ বছর লো-ভোল্টেজের উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নতুন সাব-স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে, কিছু দিনের মধ্যেই শেষ হতে পারে। তখন আলমডাঙ্গায় লো-ভোল্টেজ আর থাকবে না।