আলমডাঙ্গায় বাল্যবিবাহ, কাজী-ঘটকসহ ছয়জনকে জরিমানা

348

আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গায় পৃথক স্থানে দুটি বাল্যবিবাহ আয়োজন করায় কাজি ও ঘটককে কারাদণ্ডাদেশ এবং অভিভাবকসহ ছয়জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন আলী গত বুধবার দুটি পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁদের শাস্তি দেন।
জানা যায়, মেহেরপুর জেলার সালদা গ্রামের বাবুল হোসেনের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরীকন্যা দীপা খাতুনের বিবাহ ঠিক হয় একই জেলার ষোলটাকা গ্রামের আবুল কালামের কিশোরের ছেলে বাচ্চু আলীর সঙ্গে। নিজ এলাকায় বাল্যবিবাহ দেওয়ার অসুবিধার কারণে কৌশলে আলমডাঙ্গা উপজেলার খোরদ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে একরামুল হকের বাড়িতে ওই বাল্যবিবাহ আয়োজন করা হয়। বুধবার সকাল থেকেই বিয়ের আয়োজন চলছিল। পূর্বেই বর-কনে ও তাঁদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে কাজি স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন নূর উদ্দীন উপস্থিত হয়ে বর-কনের প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধের কাজ শুরু করেন। ঠিক সে সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে উপস্থিত হন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন আলী। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কাজি নূর উদ্দীন ও ঘটক মেহেরপুর জেলার ষোলটাকা গ্রামের তৈয়ব আলীকে পাঁচ দিন করে কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ বর কিশোর বাচ্চু আলী, বিয়ে বাড়ির মালিক একরামুল হক ও কনের চাচা মেহেরপুর জেলার সালদা গ্রামের ইসরাইল হোসেনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। অন্যদিকে একই দিনে আলমডাঙ্গা উপজেলার কাঁটাভাঙ্গা গ্রামে পৃথক আরেকটি বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হয়। কাঁটাভাঙ্গা গ্রামের মহসিন আলীর দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরীকন্যা টাইরা খাতুনের বিয়ে একই উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের এখার উদ্দীনের ছেলে ফিরোজ আলীর সঙ্গে আয়োজন করা হয়। দুপুরে বরযাত্রী বিয়ে বাড়ি পৌঁছালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিবাহের কাজি বাড়াদী গ্রামের আব্দুস সাত্তার, কনের বাবা মহাসিন আলী ও বর ফিরোজ আলীকে ৫ হাজার টাকা করে প্রত্যেককে জরিমানা করেন।