আলমডাঙ্গায় নারীর মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ!

62

প্রতিবেদক, সরোজগঞ্জ:
আলমডাঙ্গায় সাহার বানু (৫৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শাশুড়ী সাহার বানুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই পুত্রবধূ সীমা খাতুনের (৩০) বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার পোলবাগুন্দা গ্রাম থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সাহার বানু উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের পোলবাগুন্দা গ্রামের মৃত গনঞ্জের আলীর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে সাহার বানুকে মৃত অবস্থায় বিছানায় দেখে গ্রামের লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ গতকাল বেলা ১১টার দিকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। গ্রামের লোকজনের অভিযোগ, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাশুড়ী সাহার বানুর সঙ্গে পুত্রবধূ সীমা খাতুনের মধ্যে সাংসারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া বাধে। এসময় সাহার বানুকে হত্যার হুমকি দেয় পুত্রবধূ সীমা খাতুন। এদিকে সাহার বানু নিহতের ঘটনা জানতে পেরে গ্রামের লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠলে সকালে গা-ঢাকা দেয় সীমা খাতুন।
নিহত সাহার বানুর ভাই আসাদুল হক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বোন সাহার বানুকে তাঁর পুত্রবধূ সীমা খাতুন শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। সীমা খাতুন প্রায়ই আমার বোনের সঙ্গে ঝগড়া করত, এমনকি বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দিয়েছিল।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সকালে অভিযুক্ত সীমা খাতুন বলেন, রাত দুইটার দিকে গোয়ালে থাকা গরু ডাকাডাকি করতে থাকলে গোয়ালে দেখার জন্য শাশুড়ীর কাছে থাকা গোয়ালঘরের তালার চাবি আনতে যায়। দরজার বাইরে থেকে শ্বাশুড়ীকে অনেক ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরে ডুকে দেখি শাশুড়ী শুয়ে আছে। এসময় কাছে যেয়ে আবারও ডাকি, কিন্তু কোনো সাড়া পেয়ে তিনি মারা গেছেন বলে বুঝতে পেরে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবীর জানান, সাহার বানুর মরদেহে প্রাথমিকভাবে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জানা যাবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।