আলমডাঙ্গায় অপারেশন, রাজশাহীতে প্রসূতির মৃত্যু!

147

আলমডাঙ্গা অফিস/ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গার আল-আরাফা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে অপারেশন শেষে রাজশাহী মেডিকেলে নেওয়ার পরে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই প্রসূতির মৃত্যু ঘটে। রোগীর স্বজনেরা দাবি করেন, কোনো রিপোর্ট ছাড়াই অপারেশন করায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত রুবিনা খাতুন আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামের আকমান হোসেনের স্ত্রী। ওই প্রসূতির নবজাতকের শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো না থাকায় তাকেও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামের আকমান হোসেনের স্ত্রী রুবিনা খাতুন আট মাসের গর্ভবতী ছিলেন। গত শনিবার রাতে প্রসব বেদনা উঠলে রুবিনার পরিবারের লোকজন প্রথমে আলমডাঙ্গার শহরের শেফা ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরে শেফা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শারীরিক অবস্থা দেখে তাঁকে অপারেশন করার পরামর্শ দেয়। রুবিনার পরিবারের সদস্যরা আল-আরাফা প্রাইভেট হাসপাতালে তাঁর সিজার করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ওইদিন রাতেই রুবিনাকে আল-আরাফা ক্লিনিকে ভর্তি করে। গত রোববার সকাল আটটার দিকে সেখানে তাঁর অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর থেকেই রুবিনার কোনো জ্ঞান ছিল না। ২৪ ঘণ্টায় রোগীর জ্ঞান না ফেরায় রুবিনাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। রুবিনাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে সেখানে তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন সেখানকার চিকিৎসক। গতকাল বুধবার সকাল আটটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রুবিনার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর আলমডাঙ্গায় পৌঁছালে আল-আরাফা ক্লিনিক ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে মৃত রুবিনার আত্মীয়েরা। ‘তাঁরা অভিযোগ করেন, এ সব ক্লিনিক কীভাবে পরিচালনা হয়, যেখানে দক্ষ নার্স ও চিকিৎসক নেই, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী নেই, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, অদক্ষ নার্স দিয়ে দিনের পর দিন পরিচালিত হয় এ সব ক্লিনিক। স্বাস্থ্য বিভাগ কি ঘুমিয়ে দিন কাটায়। আমরা তদন্তপূর্বক সঠিক বিচার চাই।’
উদয়পুর গ্রামের ইউপি সদস্য জানান, শনিবার রাতে আল-আরাফা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে অপারেশনের পর ওই প্রসূতির রাজশাহীতে মৃত্যু হয়েছে। ডেলিভারি করানোর সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, পেটের বাচ্চাসহ মা সুস্থ আছেন। ২৪ ঘণ্টা জ্ঞান না ফিরলেও তাঁরা কোনো উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়নি।
রুবিনার স্বজনেরা জানান, ‘ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পর অবস্থা খারাপ হলে আমরা রুবিনাকে কুষ্টিয়ায় নিয়ে যেতে চাই। কিন্তু ক্লিনিক মালিক তাতে বাধা দিয়ে নওরীন আক্তার সেতুকে দিয়ে সকালে সিজার করান। সিজার অপারেশনের পরেই তাঁর পেটে ব্যাথা এবং প্রচুর পানি বের হচ্ছিল। এতে তার অবস্থা আরও খারাপ হলেও ক্লিনিক মালিক রুবিনাকে রেফার্ড করতে চাননি। আমরা জোর করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুবিনা মারা যান।’
এ বিষয়ে আল-আরাফা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিক কর্র্তৃপক্ষ জানায়, ‘শনিবার গভীর রাতে উদয়পুর গ্রামের আকমানের স্ত্রী রুবিনা খাতুনকে সিজার আপারেশন করানোর জন্য আমাদের ক্লিনিকে নিয়ে আনা হয়। এরপর তাঁকে ভর্তি করে একজন নার্সের মাধ্যমে নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করা হয়। তাতে ব্যর্থ হলে রোববার সকাল আটটার দিকে ডা. নওরীন আরা সেতুকে দিয়ে সিজার অপারেশন করা হয়। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাঁকে কুষ্টিয়ায় রেফার্ড করা হয়। পরে ওই রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে বুধবার সকালে মারা যান। তবে প্রসূতির সন্তান জীবিত আছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সি জানান, ‘আমি রোগীর মৃত্যুর ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি। ঘটনাটি নিয়ে কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে কারণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রসূতির মৃত্যুতে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ হয়নি।