আলমডাঙ্গার বন্ডবিলের লাল্টুর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ!

279

আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গার নওদা বন্ডবিলের লাল্টুর বিরুদ্ধে প্রতারনার মাধ্যম লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে একই গ্রামের এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর নামে কৃষি ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ তুলে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারণা করলে তার সকল প্রতারণার ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। বহু পাওনাদার তার কাছে পাওনা টাকা ফেরতের দাবি জানালে তাদের টাকা ফেরত দেবার শর্তে এ ঘটনার আপোষ করা হয়।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গার নওদা বন্ডবিলের মৃত. আমজাদ আলীর ছেলে লাল্টু আলমডাঙ্গা কৃষি ব্যাংকের কিছু অসাধূ কর্মকর্তার যোগ সাজসে একই গ্রামের মৃত খোকাই মন্ডলের ছেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নজির উদ্দিনকে কৃষি ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ তুলে দেবার কথা বলে জমির কাগজপত্র নিয়ে ঋণ স্কীম করে। তার টিপ সই দিয়ে গোপনে ৬০ হাজার টাকা ঋণ তুলে তাকে ২৭ হাজার টাকা দেয়। ওই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সুদ আসলসহ ২৫ হাজার টাকার পরিষদ করার কয়েক বছর পর ব্যাংক থেকে তাকে নোটিশ দিয়ে জানানো হয় সে ঋণ নিয়েছে ৬০ হাজার টাকা তার কাছে ব্যাংক আরোও ৪৫ হাজার টাকা পাবে। নাজির উদ্দিন ৬০ হাজার টাকা ঋণের বিষয়ে লাল্টুর কাছে জানতে চাইলে লাল্টু বাকী টাকা পরিষদ করে দেবে বলে জানায়। বেশ কয়েক মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও লাল্টু টাকা ফেরত না দিয়ে পাওনার বিষয়টি অস্বীকার করে।
এদিকে, কৃষি ব্যাংক থেকে টাকা পরিষদ করার জন্য নজিরকে আবারো নোটিশ দিলে গ্রামের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে লাল্টুর বাড়ি থেকে গরু খুলে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে লাল্টু থানায় অভিযোগ করে। গতকাল শুক্রবার গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এ বিষয়ে আপোষ মিমাংসার আয়োজন করা হলে তার গরুর ফিরিয়ে দেয়া হয়। লাল্টুর এ ঘটনা জানার পর পাওনাদার একই গ্রামের মৃত. ফণি মন্ডলের ছেলে আজিজুর রহমান তার ৬ লাখ টাকা, গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত. সমশের আলীর ছেলে জালাল ড্রাইভারের ৩ লাখ ৫০ হাজার, একই গ্রামের সামছদ্দীন ছেলে শাহাজানের ২ লাখ ৫০ হাজার, একই গ্রামের মুনছুর আলীর ছেলে শরিয়তের ১ লাখ ৫০ হাজার, মৃত. শাহাজদ্দীনের ছেলে ইন্নাত আলী ও শহিদুল ইসলামের ১ লাখ ৮৭ হাজার, আয়ুব হোসেনের ছেলে তানজেদ আলীর ৮৭ হাজার, শুকুর আলীর স্ত্রী শাহেদা খাতুন ৬০ হাজার, নওদা বন্ডবিলের মনোহর শেখের ছেলে আব্দুর রশিদ ৯০ হাজার, বন্ডবিলের খোদা বক্সের ছেলে মনোয়ার ৬০ হাজার, নওদা বন্ডবিলের নাছের মন্ডলের ছেলে নুরুল ইসলাম ৬০ হাজার, মৃত. কালু মন্ডলের ছেলে মনির উদ্দিন তার পাওনা ৫০ হাজার টাকা ফেরতের জন্য সেখানে উপস্থিত হয়। পরে অনেকেই চেক দেয়াসহ টাকা পরিষদের অঙ্গিকারে আপোষ মিমাংসা করা হয়।