আলমডাঙ্গার পৌর পশুর হাটে ১৪৪ ধারা জারি!

1292

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা
আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গার পৌর পশুর হাটের জায়গা দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় আলমডাঙ্গা পৌর পশুর হাট ও রেলওয়ে সংলগ্ন পান হাটে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম সরকার। পৌর পশুহাটের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় আইনশৃঙ্খলা অবস্থার অবনিত হওয়ার শঙ্কায় আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোর চারটা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলে গতকাল বুধবার রাতে এক নোটিশের মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ নির্দেশনা দেন।


গতকাল বুধবার রাতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত ০৫.৪৪.১৮০০.৩০২.৩৫.০০৩.২০-৭৭৮ নম্বর স্মারকে জানানো হয়েছে- আলমডাঙ্গা পৌর পশুহাট এবং রেলওয়ে সংলগ্ন পানহাট দীর্ঘদিন যাবৎ পৌরসভা কর্তৃক ইজারা প্রদান করা হয়ে আসছিল। সম্প্রতি উক্ত হাট বাংলাদেশ রেলওয়ে (পাকশি)-এর বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা কর্তৃক অন্য একজনের নিকট ইজারা প্রদান করা হয়েছে মর্মে জানা যায়। তৎপ্রেক্ষিতে আলমডাঙ্গা পৌর পশুহাট সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক প্রদত্ত ইজারাদের সাথে পূর্বের ইজারাদারের বিরোধ সংক্রান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যেহেতু উক্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে মর্মে আমার প্রতীতি জন্মেছে। যেহেতু আলমডাঙ্গা পৌরসভাধীন পৌর পশুহাট ও রেলওয়ে সংলগ্ন পান হাট এলাকায় সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ ঘোষণার যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে মর্মে আমার প্রতীতি হয়েছে। সেহেতু আমি মো. নজরুল ইসলাম সরকার, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চুয়াডাঙ্গা ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা মতে আলমডাঙ্গা পৌর পশুহাট ও রেলওয়ে সংলগ্ন পান হাট এলাকায় ১৬-০৭-২০২০ তারিখ ভোর ৪.০০টা হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত এলাকার চারপাশে ২০০ (দুইশত) গজ সীমানার মধ্যে সর্বসাধারণের প্রবেশ, ৫ (পাঁচ) বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ এবং উচ্চস্বরে মাইক বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করলাম।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গার লাল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ওয়াপদা ব্রিক ফিল্ডের কিছু জায়গা, কিছু খাস ও রেলওয়ের কিছু জায়গা নিয়ে প্রায় ৩৫ বছর আগে গড়ে ওঠে আলমডাঙ্গা পশুর হাট। এটি বর্তমানে একটি বৃহৎ পশুর হাট হিসেবে সারা বাংলাদেশে পরিচিত। এ হাট থেকে আলমডাঙ্গা পৌরসভা বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় করে থাকে। কিন্তু গতকাল কুষ্টিয়া পোড়াদহ আইলচারার আকবর আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম পশুর হাটের মধ্যে থাকা রেলওয়ে জায়গা রেলওয়ে পাকশি দপ্তর থেকে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছেন বলে তিনি জানান এবং এ সংক্রান্ত কাগজপত্রও দেখান। কাগজে উল্লেখ রয়েছে, গত ১৩ জুলাই রেলওয়ের পাকশি দপ্তরে উন্মুক্ত ডাক প্রদান করা হলে সেখানে ৫ জন ডাক-দাতার মধ্যে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দরদাতা হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। পরে ভ্যাট ও উৎস কর পরিষদ করলে রবিউল ইসলামকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলমডাঙ্গা পশুর হাটের মধ্যে থাকা রেলওয়ের ২.৪৯০ একর জমির ব্যবহারের সময়কাল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এর আগে কুষ্টিয়া পোড়াদহ আইলচারার রবিউল ইসলাম কিছু লোকজন নিয়ে পশুর হাটে উপস্থিত হয়ে রেলওয়ের কাছ থেকে লিজ নেওয়া ২.৪৯০ একর জমি দখল নিতে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। আইলচারার রবিউল ইসলাম জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে পরে তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন আলীর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিজগ্রহণ করা জায়গা দখল নেওয়ার বিষয়ে কাগজপত্রসহ আবেদন করেন। এরপর তিনি সেখান থেকে ফিরে যান।