আলমডাঙ্গার এনায়েতপুরে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সাংসারিক ঝগড়ায় বিপত্তি বউয়ের প্রতি অভিমান করে শাশুড়ির গলাই দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা!

442

শাশুড়ি (4)শহর প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদি ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার ছেলের বউয়ের সাথে শাশুড়ির সাংসারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া! অবশেষে অভিমানে গলাই দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলো শাশুড়ি ছায়রা খাতুন। শাশুড়ির মৃত্যুর পর থেকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বেটার বউ মুন্নি খাতুন। বারবার আওড়াচ্ছেন মা আমিতো শুধু সামান্য ভূল করেছি, তুমি আমাদের ছেড়ে চলে গেলে, আমাকে ক্ষমা করতে পারলে না। যে বেটার বউ মুন্নি খাতুন প্রতিনিয়ত শাশুড়ি ছায়রা বেগমের সাথে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া করতো সে কিনা বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে এবং বুক চাপড়ে কাদঁছে শাশুড়ির মৃত্যুতে। বউ-শাশুড়ির খুনসুটি এদেশে স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু বাস্তবে শাশুড়ি ছায়েরা বেগমের অভিমানে আত্মহত্যায় জীবন দেওয়ার ঘটনা সবাইকে হতবাক করেছে। জানা গেছে, গত ১৪ মাস আগে চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদি ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার রবিউলের আলীর ছেলে রমজানের(২৩)সাথে একই ইউনিয়নের আঠারখাদা গ্রামের মেয়ে মুন্নি খাতুনের (১৫) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বউ মুন্নি খাতুন ও শাশুড়ি ছায়রা বেগমের প্রতিনিয়ত সামান্য ছোটখাট বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটি চলতো আবার ঠিক হয়েও যেত। গত ১১জানুয়ারি বুধবার রাতে বউ-শাশুড়ি সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটির মাঝে এক পর্যায়ে দু’জনের হাতাহাতি হয়। পরে শাশুড়ি ছায়রা বেগম হাতাহাতির বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে অভিমানে অপমানে নিজ বাড়ির পাশে আমগাছে গলাই দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। ছায়রা বেগমের ছেলে রমজান আলি বলেন, আমার স্ত্রী মুন্নি খাতুন ও আমার মা প্রতিদিনই সামান্য ছোটখাট বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটি করতো। তবে আমি বাড়ী থাকাকালিন এমন ঘটনা কোন দিন ঘটে নাই। তবে সামান্য এতটূকু বিষয় নিয়ে আমার মা আত্মহত্যা করবে আমি কখনো ভাবতেও পারি নাই। গতকাল সকালে খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ছায়রা খাতুনের মরদেহটি উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতানে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে ছায়রা বেগমের মরদেহটি হস্তান্তর করেন।