আর চলবে না ভারী যানবাহন : নতুন ব্রিজ নির্মাণের বিকল্প নেই

291

চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরের একমাত্র সংযোগ-সেতু মাথাভাঙ্গায় আবারও ধ্বস
বিশেষ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলার একমাত্র সংযোগ-সেতু মাথাভাঙ্গার মাঝখানের একাংশ আবারও ধ্বসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ফলে দুই জেলার মধ্যে সড়ক পথে ভারী যান চলাচল এবার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ করে সেতুটির মাঝখানের কিছু অংশ ধ্বসে পড়ে। সেই সঙ্গে ধ্বসে পড়া অংশের আশপাশে ফাটল দেখা দেয়। এরপরই যানবাহন চলাচলে ধীরগতি দেখা যায়। কিছু সময়ের ব্যবধানে দুই পাশে আটকে পড়ে ছোট-বড় শত শত যানবাহন। যানজট নিরসনে সেতুর দুই প্রান্তে পুলিশ সদস্যদের দেখা যায়। তাঁরা পর্যায়ক্রমে যানবাহনগুলোকে পারাপারে সহযোগিতা করে। তবে রাত সাড়ে ১২টার পর সেতুর মুখে স্ল্যাব ও ব্যারেল ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ভারী যানবাহন যেমন: বাস, ট্রাক, ট্যাংক, লরি, কাভার্ডভ্যানসহ মিনিবাস, ট্রাক্টরগুলোকে চলতে হবে বিকল্প রুটে। আপাতত অতিঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুটির ওপর দিয়ে ইজিবাইক, রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলসহ সর্বোচ্চ পাঁচ-ছয় টনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এ জন্য রাতেই লোহার পাটাতন (স্টিল ডেকিং) দিয়ে তাঁর ওপর পিচ ঢেলে কোনো রকমে মেরামত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৬২ সালে চুয়াডাঙ্গা শহরের পশ্চিম অংশে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত হয় সেতুটি। নদীর নামের সঙ্গে মিল রেখে যা ‘মাথাভাঙ্গা ব্রিজ’ নামে পরিচিত। চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলার একমাত্র সংযোগ-সেতু এটি। সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৪০ মিটার। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকবাহিনী বোমা ফেলে সেতুর পূর্ব দিকের কিছু অংশ উড়িয়ে দেয়। সে সময় ওই ভাঙ্গা অংশ ভরাট করে যানবাহন ও পথচারী চলাচলের উপযোগী করা হয়। তাঁরপর থেকে সেতুটি ব্যবহার হয়ে আসছিল। কোনো প্রকার রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে সেতুটি দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর। ওই সময় সেতুর মাঝখানে লোহার পাটাতন দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়। এ নিয়ে দৈনিক সময়ের সমীকরণসহ একাধিক জাতীয় পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে, যেখানে বারবারই নতুন সেতু নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু সড়ক বিভাগের উদাসীনতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি অতিঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লেও সে দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই বললেই চলে। প্রায় চার বছরের ব্যবধানে সেই ধ্বসে পড়া অংশের পাশে আবারও ফাটল ও ধ্বস দেখা দিয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, মাথাভাঙ্গা ব্রিজটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় সেই ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়ে গেল কয়েকগুণ। পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সেতুর সার্বিক অবস্থা দেখে বড় ধরনের দুর্ঘটনা রোধ এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কানাই লাল সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহা. কলিমুল্লাহ ও এনডিসি সিব্বির আহমেদ।
এরপর সেতু পরিদর্শনে আসেন পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী। তিনি সেতু মেরামতকাজে সড়ক বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং রাতেই স্ল্যাব বসিয়ে সেতুর দুই প্রান্তে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করেন। এতে রাতের মধ্যেই নির্বিঘেœ সেতু মেরামতের কাজ শেষ হয়।
এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদম আলী জানান, মাথাভাঙ্গা সেতুর ডেক্সল্যাব ফুটো হয়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য স্টিল ডেকিং এবং বিটুমিন দিয়ে মেরামত করে দেওয়া হয়। এতে পাঁচ-ছয় টনের গাড়িগুলো চলতে পারবে।
নতুন সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ‘ব্রিজ ডিজাইন ডিভিশন’ থেকে একটা প্রস্তাবনা সুপারিশ আনা হয়েছে। সেই অনুযায়ী এটি মেরামতের জন্য প্রাক্কলন ইতিমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। আর নতুন যে সেতুটি নির্মাণ করা হবে, তার টেন্ডার হয়ে গেছে। এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমতির (নোটিশ টু কমেন্টস) অপেক্ষায় রয়েছি, আশা করি, সে অনুমতি মিলবে এবং দ্রুতই কাজ শুরু হবে।”