আর্জেন্টিনার করুণ পরাজয়! শেষ ষোলোতে ক্রোয়েশিয়া

399

সমীকরণ স্পোর্টস ডেস্ক: আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফেভারিটের মতো খেলেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। অথচ রাশিয়া বিশ্বকাপে ফেভারিটের তকমা নিয়ে এসেছিল আর্জেন্টিনা! ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অগোছালো আর দুর্বল রক্ষণের খেসারত দিয়ে ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাদের। এই জয়ে শেষ ষোল নিশ্চিত হলো ক্রোয়েশিয়ার। অন্যদিকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার শঙ্কা উঁকি দিচ্ছে মেসিদের। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে গোলরক্ষক উইলি কাবাইয়েরোর হাস্যকর ভুলে গোল খেয়ে বসে আর্জেন্টিনা। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড রেবিচের পায়ে বল তুলে দেন কাবাইয়েরো। এতো সহজ সুযোগ হেলায় না হারিয়ে গোলমুখে পাঠিয়ে দেন রেবিচ। পাহাড় সমান চাপটা আরও বিশাল হয়ে ধরা দিল আর্জেন্টিনার। আইসল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা আর্জেন্টিনা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ছিল ছন্নছাড়া। ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হোর্হে সাম্পাওলির দল। এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ক্রোয়েটরা।
দুই অর্ধে খেলায় চাপের কাছেই মাথা নত শিকার করেছে হোর্হে সাম্পাওলির দল। অথচ প্রথমার্ধে গোল মুখে বেশ কয়েকবারই সুযোগ তৈরি করেছিল আলবিসেলেস্তেরা। গোলে মুখে সুযোগ পেয়েছিল লুকা মদরিচরাও। যদিও খেই হারিয়েছে সেসব আক্রমণ। পঞ্চম মিনিটে একক প্রচেষ্টায় আর্জেন্টিনার রক্ষণে ত্রাস ছড়াতে গিয়েছিলেন পেরিসিক। বাম প্রান্ত থেকে নিচু শটে মেরেছিলেন। গোলকিপার উইলি কাবায়েরো আলতো ছোঁয়ায় কর্নারের বিনিময়ে তা রক্ষা করেন। আর্জেন্টিনাও সমান সুযোগ পেয়েছে খেলার ধারায়। ১২ মিনিটে দারুণ সুযোগ পান মেসি। ক্রোয়েশীয় পোস্টের কাছে চলে গিয়েছিলেন। আট গজ দূর থেকে পাওয়া বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি। ১৩ মিনিটে আবারও সুযোগ আর্জেন্টিনার। মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো সালভিয়োর কাট ব্যাক পাস থেকে শট নিয়েছিলেন মেজা। ক্রোয়েট ডিফেন্ডার লভরেন দারুণভাবে ব্লক করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় সে শট। ৩০ মিনিটেই বলতে গেলে লোভনীয় সুযোগটা পায় আর্জেন্টিনা। যদিও দুর্ভাগ্যই সঙ্গী ছিল সেসময়। একেবারে ফাঁকা পোস্টে বল পেয়েও বেশি দূরে বল পাঠিয়ে দেন আজকের ম্যাচে জায়গা পাওয়া পেরেস। দ্বিতীয়ার্ধে ক্রোয়েটদের আক্রমণে খেই হারিয়ে বসে মেসিরা। না হলে ৫৩ মিনিটে এমন গোলের জন্য প্রস্তুত ছিল না আর্জেন্টিনা। মেরকাদোর ব্যাক পাস ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি গোলকিপার কাবায়েরো। ভুলক্রমে কিক করে বল উঠিয়ে দেন ক্রোয়েশীয় আন্তে রেবিচের কাছেই। তাতে দুর্দান্ত ভলিতে সুযোগ পেয়ে জালে বল পাঠাতে ভুল করেননি তিনি। ৮০ মিনিটে বোজোভিচের স্কোয়ার বল থেকে বাঁকানো শটে স্কোর লাইন ২-০ করেন লুকা মদরিচ। এমন ছন্নছাড়া অবস্থায় আরও কদর্যতায় নেমে যেতে দেখা যাচ্ছিল মেসিদের। গায়ের ওপর চড়াও হয়েছিল। তাতে আর তাপ কমাতে পারেনি। উল্টো ৯০+১ মিনিটে আবারও আর্জেন্টাইন গোলকিপারের বোকামোতে ব্যবধান বাড়ায় ক্রোয়েশিয়া। কয়েক দফায় তাকে পরাস্ত করে জালে বল পাঠান ইভান রাকিতিচ। ম্যাচের যোগ করা সময়ের মাত্র ১ মিনিট পার হতেই আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে হতচকিত করে গোল করেন ইভান রাকিতিচ। মূলত দুর্বল গোলরক্ষণই ডুবিয়েছে আর্জেন্টিনাকে। দলের জন্য তার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও তার ‘কেয়ারলেস’ গোলকিপিং সমালোচিত হয়েছিলো। পুরো ম্যাচে ধুকতে থাকা আর্জেন্টাইনদের মূল ভরসা লিওনেল মেসি আজ যেন নিজের ছায়া হয়েই রইলেন। তাকে পাহারা দিতে খুব বেশি অসুবিধা হয়নি ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণকে। বরং বারংবার আক্রমণ করে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের রক্ষণে ঠেলে দিয়েছেন রাকিতিচ-মদ্রিচরা।
আজকের ম্যাচে শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনেন সাম্পাওলি। জায়গা পাননি ডি মারিয়া, লুকাস বিজিয়া ও মার্কোস রোহো। ঢুকেছেন গাব্রিয়েল মেরকাদো, মার্কোস আকুনা ও এনসো পেরেস। গোল খেয়ে বদলি হিসেবে হিগুয়েন, দিবালাদের নামিয়ে দেন আর্জেন্টাইন কোচ সাম্পাওলি। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কারণ আসল দুর্বলতা তো রক্ষণে। ক্রোয়েট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচের গোলটিও গোলরক্ষকের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। দলের করুন পরিণতি দেখে মেসির মতো শান্ত খেলোয়াড়ও আজ মেজাজ হারিয়ে ফেললেন। উত্তাপ ছাড়ালো নিকোলাস উতামেন্দির সাথে রাকিতিচের বাকবিত-া। রাকিচের মাথায় প্রায় লাথিই বসিয়ে দিয়েছিলেন ওতামেন্দি। তাতে হলুদ কার্ড দেখতে হয়েছে তাকে। আসলে আর্জেন্টিনার অগোছালো ফুটবলই তাদের ভরাডুবি ঘটিয়েছে। উত্তাপটা আসলে হতাশার বহিঃপ্রকাশ বই আর কিছু নয়। পুরো ম্যাচে স্পষ্ট কোন আক্রমণই করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। একেবারে অসহায় আত্মসমর্পণ যাকে বলে।
ডি গ্রুপে ২ ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে ক্রোয়েশিয়া। ১ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে পরেই রয়েছে আইসল্যান্ড। তারপরে দুই ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে আর্জেন্টিনা। ১ ম্যাচে ১ হার নিয়ে সবার নিচে নাইজেরিয়া। শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জটিল সমীকরণে নামতে হবে আর্জেন্টিনাকে।