আমি আমার আত্মতৃপ্তির জন্য থিয়েটার করি

126

দর্শনার অনির্বাণ থিয়েটারের সংবর্ধনা গ্রহণকালে আনোয়ার হোসেন
আওয়াল হোসেন, দর্শনা:
দর্শনায় ‘প্রাপ্তির আকাক্সক্ষায় তুমি, বিনির্মাণের উল্লাস’ স্লোগানে অনির্বাণ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব, নির্দেশক, পরিচালক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপনির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাতটায় অনির্বাণ থিয়েটার কার্যালয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এ সময় আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আগামীতে কী করতে পারব, আর কী পারব না, সেটা জানি না। তবে আমি আমার আত্মতৃপ্তির জন্য থিয়েটার করি। থিয়েটার একটি প্ল্যাটফর্ম, এখান থেকে কথা বলা যায়। নাটক থেকে কথা বলা যায়, আমরা নাটকের মাধ্যমে মানুষের কথা বলতে শিখেছি। সেই সঙ্গে নিজের কথাও বলতে পারি। নাটকের আঙ্গিকে কীভাবে নিজের কথা বলতে হয়, সেটাও শিখেছি এ থিয়েটার থেকে। আমি যখন প্রথম মানিক বন্দোপাধ্যায়ের লেখা ‘আজও আদিম’ নাটকের নির্দেশনা দিই, তখন নিজের কাছেই অনেক ত্রুটি মনে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে বারবার দেখে পরিবর্তন করে একটি মনের মতো জায়গায় নিয়ে এসেছি। এরপর বেশ কয়েকটি নাটকে নিদের্শনা দেওয়ার পর নিজের লেখা ‘জিষ্ণু যারা’ নাটকটি একটি ভালো অবস্থানে আনতে পেরেছি। এখন নাটকের মাধ্যমে মানুষের জন্য কথা বলার পাশাপাশি নিজের কথা বলতে শিখেছি।’
অনুষ্ঠানে আনোয়ার হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন অনির্বাণের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এ কে এম শহিদুল আলম, আলী কদর, বদরুল আলম ফিট্টু, নব্বই দশকের সদস্য উত্তম কুমার দেবনাথ, অনন্ত কুমার শান্তারা, কবিরুল হক লিপু, সাংবাদিক আওয়াল হোসেন, তরুণ সদস্য প্রভাষক মিল্টন কুমার সাহা, হাসমত কবির, মাহাবুবুর রহমান মুকুল, সাজ্জাদ হোসেন, প্রভাষক সায়মুল হক টিপু, জগৎনাথ, রাজু, পপি, মদিনা প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে অনির্বাণ থিয়েটারের কর্মীরা পদ্মপাতায় পিঠাপুলি ও পায়েস খেয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন।
উল্লেখ্য, আনোয়ার হোসেন ভারতের কলকাতা আন্তর্জাতিক শর্টফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০১৯-এর শ্রেষ্ঠ পরিচালক (২য় সেরা) হিসেবে পুরস্কার পাওয়ায় তাঁকে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। গত ২৪-২৫ আগস্ট দুই দিনব্যাপী ভারতের অনুকৃতি আয়োজনে কলকাতা আকাদেমি অব ফাইন আর্টস মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শর্টফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-২০১৯ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশের ১৪টি শর্টফিল্ম প্রদর্শিত হয়। সেখানে বাংলাদেশের দর্শনার শর্টফিল্ম নির্মাতা সংগঠন ‘সিনেম্যাড’ তাদের নির্মিত প্রথম শর্টফিল্ম ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে অংশগ্রহণ করে। ওই শর্টফিল্মের পারিচালক আনোয়ার হোসেন ২য় সেরা পুরস্কার লাভ করেন।