আমার হৃদয়ে এই কলেজের প্রত্যেকটি ক্ষণ গেঁেথ থাকবে চিরকাল

30

অবসর গ্রহণ করলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সুদীর্ঘ ৩৫ বছরের শিক্ষকতা শেষে অবসর গ্রহণ করলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমান। গতকাল শনিবার তাঁর শেষ কর্মদিবস ছিল। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি দেশের বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করাসহ চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ২০১৫ সালের ২০ জুন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর গতকাল ৮ আগস্ট তাঁর কর্মজীবনের শেষ কর্মদিবস ছিল। এ দীর্ঘ সময়ে তিনি ১১ বছর বিভিন্ন কলেজে উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে, প্রিয় এই অধ্যক্ষের শেষ কর্মদিবসে কলেজ কর্তৃপক্ষের আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদায় জানানোর ইচ্ছা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদায় জানানো হবে বলে জানা গেছে। শেষ কর্মদিবসে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রিয় শিক্ষককে স্বল্প পরিসরে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিদায় জানান কলেজের শিক্ষকেরা। কলেজের মূল ফটক পর্যন্ত এসে গাড়িতে উঠিয়ে দেন তাঁরা। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার চোখই ছিল অশ্রুসিক্ত। এর আগে, সংক্ষিপ্ত অনুভূতি জানান অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমান।
এ সময় আবেগঘন হয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে এ কলেজে আমি যোগদান করেছি। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ। এ কলেজের সব উন্নয়ন কাজে আপনাদের পাশে পেয়েছি। চাকরি সূত্রে আরও অনেক স্থানে অনেক কলেজে ছিলাম, তবে এটিই আমার শেষ কর্মস্থল আর সব থেকে বেশি ভালোবাসারও কর্মস্থল। আমার শিক্ষকতা জীবনে এই কলেজে সব থেকে বেশি সময় আমি চাকরি করেছি। কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকালে আমি সর্বদা চেষ্টা করেছি ভালো কিছু করার। আমার হৃদয়ে এই কলেজের প্রত্যেকটি ক্ষণ গেঁেথ থাকবে চিরকাল।’
এর আগে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম সাইফুর রশিদের হাতে দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রাদি বুঝিয়ে দেন। এ সময় কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমান চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন ২০১৫ সালে। অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমানের এ দীর্ঘ প্রায় ৫ বছরের সময়কালে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে কলেজের। কলেজের অভ্যন্তরীন রাস্তা তৈরি, কলেজের নতুন মনোরম গেট নির্মাণ, কলেজে মহিলা হোস্টেল নির্মাণ, ৫ তলা বিশিষ্ট পরীক্ষা ভবন নির্মাণ, ৫ তলা বিশিষ্ট ব্যবসায় শিক্ষা ভবন নির্মাণ, বিদ্যুৎ সাব স্টেশন নির্মাণ, কলেজের অভ্যন্তরীন বিদ্যুতের লাইন নতুনকরণ, মনোরম ও অত্যধুনিকভাবে অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষের চেম্বার নির্মাণ করেছেন তিনি। কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমেও ব্যাপক উন্নয় করেছেন অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমান। তিনি বিজ্ঞান বিভাগের রসায়ন ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে অনার্স চালু করা, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ব্যবস্থাপনা বিভাগে মাস্টার্স চালু করা, মানবিক বিভাগে ইতিহাস, দর্শন ও ইংরেজি বিভাগে মাস্টার্স চালু করাসহ প্রভূত অনুমোদনমূলক কাজ করে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের মান আরও বৃদ্ধি করেছেন। তৈরি করেছেন উচ্চশিক্ষার প্লাটফর্ম। যে কাজ আগের কোনো অধ্যক্ষ করতে পারেননি, তিনি সেই কাজ করে দেখিয়েছেন। কলেজের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একাদশ-দ্বাদশ শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম চালু করেছেন। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্ড ইস্যু করে পরীক্ষা গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করার প্রথাও চালু করেছেন। অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমান চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে মানবিক ও এক্সট্রা কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতেও করেছেন ব্যাপক পরিশ্রম। কলেজে রক্তদানকারী সংগঠন বাঁধন, বিতর্ক সংগঠন ডিবেটিং সোসাইটি, গার্ল ইন রোভার, সাহিত্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন তাঁর হাত ধরেই। তিনিই সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও কেন্দ্রীয়ভাবে বসন্তবরণ, পিঠা উৎসবসহ খেলাধুলার ক্ষেত্রেও করেছেন অভূতপূর্ব উন্নয়ন। ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবলসহ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা করেছেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে।