আমানতে মুক্তি খেয়ানতে বিনাশ

12

ধর্ম ডেস্ক:
কারো কোনো বস্তু অন্যের কাছে রক্ষিত রাখার নাম আমানত। আরবি ভাষায় আমানত অর্থ হলো কারো ওপর কোনো ব্যাপারে নির্ভর করা। আমাদের সমাজে সাধারণত টাকা-পয়সা, অর্থ-সম্পদ গচ্ছিত রাখাকেই আমানত মনে করা হয়। আর কেউ যদি এটা নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে বা গচ্ছিত অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করে ফেলে এটাকে আমরা খেয়ানত বলি। তবে কোরান-হাদিসে আমানতের বিস্তৃতি আরেকটু ব্যাপক। যেমন জন্মের আগেই মানুষ রূহের জগতে স্বীকার করে এসেছে আল্লাহ আমাদের প্রভু-এটাও আমানত। মানুষের গোটা দেহটাই আমানত। প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন আমানত হিসেবে। যথাযথভাবে তা ব্যবহার না হলেই তা আমানতে খেয়ানত। আল্লাহ কোরানে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতসমূহ এর প্রাপ্য পাওনাদের কাছে পৌঁছে দাও।’ হাদিসে মুনাফিকের অন্যতম কারণ হিসেবে আমানতে খেয়ানত করাকে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য হাদিসে রাসুল সা. বলেছেন, ‘যার মধ্যে আমানতদারি নেই তার ইমান নেই।’ হাদিসে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করেন, কিন্তু সে মানুষের আমানত না বুঝিয়ে মারা যান। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে বলবেন, মালিকের কাছে আমানত ফেরত দাও। কিন্তু সে মালিককে খুঁজে পাবে না। তখন আমানতের বোঝা তার মাথায় চাপিয়ে দিয়ে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ এ লোক বান্দার অধিকার নষ্ট করার কারণে জাহান্নামের ভাগী হলো।