আমলহীন উপদেশ বর্জনীয়

367

ধর্ম ডেস্ক: মানুষকে ভালো কাজের প্রতি আহ্বান জানানোর পূর্বশর্ত হচ্ছে নিজে আগে ভালো কাজ করা। নিজে সেই কাজ না করে অন্যকে এর প্রতি আহ্বান জানালে তা কেউ গ্রহণ করে না। এ জন্য আল্লাহর পথে আহ্বানকারী বা দায়ীর প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে নিজে যা বিশ্বাস করেন এবং যার ওপর আমল করেন সেটারই দাওয়াত দেয়া। আল্লাহ কোরানে কারিমে সরাসরি মুমিনদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘মুমিনগণ! তোমরা যা কর না তা কেন বল?’ আমাদের সমাজে একশ্রেণীর মানুষ আছেন যারা নিজে সঠিক পথে চলেন না কিন্তু অন্যকে জ্ঞান দিয়ে বেড়ান। তাদের কথা মানুষ মানে না। তাদের আহ্বানের কোনো প্রভাব সমাজে পড়ে না। নিজে আমল না করে উপদেশ দিয়ে বেড়ানো অন্যায় কাজও। হাদিসে এর ভয়াবহ শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে হাজির করা হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। ফলে তার নাড়িভুঁড়ি আগুনের মাঝেই বেরিয়ে আসবে। এরপর ওই ব্যক্তি এ নাড়িভুঁড়িসহ আগুনের মাঝে এমনভাবে চলাফেরা করবে যেমন পশু ঘানির চারিদিকে ঘোরাফেরা করে। এ অবস্থা দেখে অন্য জাহান্নামবাসী তার কাছে এসে জড়ো হবে এবং জিজ্ঞেস করবে, তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি কি আমাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দান এবং অন্যায় কাজ করা হতে নিষেধ করোনি? সে ব্যক্তি জবাবে বলবে, আমি তোমাদেরকে সৎকাজের দীক্ষা দিতাম ঠিকই কিন্তু আমি নিজে তার ধারে কাছেও যেতাম না এবং পাপ কাজ হতে তোমাদের বিরত থাকতে বলতাম, কিন্তু আমি নিজে তা করতাম। (বুখারি, মুসলিম) অনেক হাদিসে আছে, রাসুল (সা.) বলেন, আমি মেরাজের রাতে এমন কিছু ব্যক্তিকে দেখেছি যাদের ঠোঁটগুলো আগুনের কাঁচি দ্বারা কেটে ফেলা হচ্ছিল। আমি জিবরিলকে (আ.) জিজ্ঞেস করলাম, এসব লোক কারা? তিনি বললেন, এরা আপনার উম্মতের খতিব (বক্তা) যারা মানুষকে নেক কাজের নির্দেশ দিত আর নিজেদের ব্যাপারে উদাসীন থাকত। অর্থাৎ বাস্তব জীবনে নিজেরা তা পালন করত না। (মিশকাত) এজন্য সবার উচিত নিজে যা বিশ্বাস করে এবং যার ওপর আমল করে তার প্রতি মানুষকে আহ্বান করা। নিজের ভেতরে শয়তানি রেখে মানুষকে দীনের পথে আহ্বান করলে এর দ্বারা কোনো উপকার তো হবেই না বরং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।