আবার বেড়েছে পেঁয়াজের দাম

37

বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিন
গত মাসের শেষের দিকে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিলে রাতারাতি বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর এশিয়ার অন্যান্য দেশ রপ্তানি বাড়ালেও বাজার স্থিতিশীল হয়নি। স্থানীয় বাজার সামাল দিতে টিসিবি খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। অন্যদিকে মিয়ানমার, মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। তাতে কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে কিছুটা হলেও পেঁয়াজের দাম কমে আসে। কিন্তু তা স্থিতিশীল হয়নি। পেঁয়াজের দাম আবারও ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। খোলা চোখে দেখা যাচ্ছে, ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর বাজারে যে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছিল, তা কাটাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকার টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংকট কাটাতে আমদানি ত্বরান্বিত করতেও ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু তা বাজারকে প্রভাবিত করতে পারেনি বা বাজারে এর প্রভাব পড়তে দেওয়া হয়নি। ভোক্তাদের অভিযোগ, নানা অজুহাতে দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের কৌশল। বাজার সিন্ডিকেট অত্যন্ত সক্রিয়, আর সে কারণেই এক দিনের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম ২৫-৩০ টাকা বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীদের অভিমত, মিয়ানমার, মিসর ও তুরস্ক থেকে যে পেঁয়াজ এসেছে তার পরিমাণ একেবারেই কম। আবার এই পেঁয়াজের একটি বড় অংশ পচে যাওয়া। ফলে লোকসান কমাতে বাধ্য হয়েই তাদের বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। যদিও কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। চাহিদা পূরণ করতে আমদানিকারকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করছেন। বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়েছে মূলত ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে। পেঁয়াজের বড় রপ্তানিকারক ভারত। দেশটির বাজার স্থিতিশীল না হলে এশিয়ায় পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল হবে না বলে বাজারসংশ্লিষ্টদের অভিমত। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে ভারতের পেঁয়াজ বাজারে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরো বড় ব্যবস্থা নিতে হবে। টিসিবিকে আরো বড় আকারে মাঠে নামাতে হবে। বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসার আগ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু না রাখতে পারলে অচিরেই বাজার আরো বেশি অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। শুধু পেঁয়াজ নয়, পুরো বাজারব্যবস্থা নতুন করে মনিটরিং করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। বিকল্প বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিকল্প বাজার ছড়িয়ে দিতে না পারলে বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে না। অন্যদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজার নিয়ন্ত্রণে এই ব্যবস্থা যত দিন না নিচ্ছে, তত দিন বাজারে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে না। আমরা আশা করব বাজার নিয়ন্ত্রণে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।