আবারো বিমানের জরুরি অবতরণ

150

রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি কেন?
বাংলাদেশ বিমানের বিকল আর সিডিউল বিপর্যয়ে প্রায়ই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। গত শুক্রবার সিলেট থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইট (বিজি ৪০২) ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজের পেছনের চাকা ফেটে যাওয়ায় পাইলট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হন। বিমান কর্তৃপক্ষ এই ত্রুটিকে ‘বিপজ্জনক কিছু নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, বিমানে এ ধরনের ত্রুটি বারবার দেখা যাবে কেন? এতে যাত্রী নিরাপত্তা কি প্রশ্নবিদ্ধ করছে না? জানা গেছে, শুক্রবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে ৬৩ যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। উড্ডয়নের সময় বিকট শব্দে পাইলট নিশ্চিত হন পেছনের একটি চাকা ফেটে যায়। এতে তিনি আর সিলেট না গিয়ে ঢাকায় এসে অবতরণ করার সিদ্ধান্ত নেন। সব যাত্রী অক্ষত অবস্থায় বিমান থেকে নেমে আসেন। এ জাতীয় ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর ও ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর জরুরি অবতরণ করে বিমানের আরো দুটি উড়োজাহাজ। ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানের একটি উড়োজাহাজ মিয়ানমারের উদ্দেশে যাত্রা করে কিছুক্ষণ পর আবার ঢাকায় ফিরে আসে। একই বছর ২৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে বোয়িং রাঙা প্রভাতও তুর্কমেনিস্তানে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। সঠিক তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে এ জাতীয় যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটে থাকে। ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবেই দেখা হয় সব সময়। কিন্তু বারবার একই ধরনের ঘটনা কেন ঘটছে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনোযোগ নেই। জাতীয় পতাকাবাহী বিমানের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার দিকটি নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা আছে। দুর্নীতি আর অপচয়ের অন্ত নেই বিমান খাতে। যন্ত্রপাতি ক্রয় থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণ, যাত্রীসেবাসহ সার্বিক কর্মকা-ের প্রতিটি ধাপে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ঘুরেফিরে সংবাদের শিরোনাম হলেও টনক নড়ে না কর্তৃপক্ষের। গত বছরের এপ্রিলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিমানের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় রক্ষণাবেক্ষণ খাতে। এ বিভাগের অনিয়ম-দুর্নীতি, দায়িত্ববোধ যে কী পর্যায়ের, তা সহজেই অনুমেয়। এ দুর্নীতির লাগাম টানা সম্ভব। পাশাপাশি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক দরপত্রের নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ জরুরি। পাশাপাশি স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সংস্থাটিকে মুক্ত করতে হবে।