আবারো খুলনার কাছে বরিশালের হার

42

খেলাধুলা প্রতিবেদন:
বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে তামিম ইকবালের দল ফরচুন বরিশালকে ৪ উইকেটে হারিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল খুলনা। তামিমদের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের দেখায়ও জয় পেয়েছে রিয়াদরা। টুর্নামেন্টে শুক্রবার দিনের প্রথম ম্যাচে বরিশালকে ৪৮ রানে হারিয়েছে খুলনা। এদিন শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে খুলনার দেয়া ১৭৪ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৫ ওভারে ১২৫ রান করে অলআউট হয়ে যায় বরিশাল। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৭৩ রান তোলে জেমকন খুলনা। সাকিব আজ আর ওপেন করতে নামেননি। একাদশ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে এনামুল হক বিজয়কে। ফলে নতুন উদ্বোধনী জুটি হিসেবে খুলনার ইনিংস সূচনা করেন জহুরুল ইসলাম ও বিজয়ের জায়গায় সুযোগ পাওয়া জাকির হাসান। উদ্বোধনী জুটিতে আসে মাত্র ১৯ রান। ১০ বলে মাত্র ২ রান করে তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন জহুরুল। এরপর জাকির হাসানের সঙ্গী হন ইমরুল কায়েস। উইকেটে দুই বাঁহাতি থাকায় দুইপ্রান্ত থেকে দুই অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ ও আফিফ হোসেন ধ্রুবকে আক্রমণে লাগিয়ে দেন অধিনায়ক তামিম। ৩৩ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ফিফটি পূরণ করেন জাকির। ইনিংসের ১৫তম ওভারে রাব্বির বলে ৩৪ বলে ৩৭ রান করা ইমরুল কায়েস তামিম ইকবালের হাতে ধরা পড়লে ভাঙে জাকিরের সঙ্গে তার জুটি। উইকেটে এসেই দ্বিতীয় বলে কাভার ড্রাইভে চার মারেন সাকিব। কিন্তু বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলামের বলে তৌহিদ হৃদয়ের তালুবন্দি হয়ে ১৪ বলে ১০ রানেই তার ইনিংস থামে। তার আগে জাকিরকে ফেরান তাসকিন। দুর্দান্ত ব্যাটিং করা জাকির খেলেন ১০ চারের মারে ৪২ বলে ৬৩ রানের ইনিংস। এরপর ইনিংসে বাকিটা সাজান ১৪ বলে ২৪ রান করা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শেষ ৩ ওভারে খুলনা পায় ৪২ রান। শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে ১৭৩ রান এনে দেন আরিফুল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য দারুণ করে বরিশালের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও পারভেজ হোসেন ইমন। উদ্বোধনী জুটি অর্ধশতক তোলার পর ইমন (১৯) ফিরলে ভাঙে দলীয় ৫৭ রানে ভাঙে জুটি। আর শুভাগত হোমের করা ওই ওভারেই দলীয় স্কোরবোর্ডে আর মাত্র এক রান যোগ করে ফেরেন তামিম। তামিমের ২১ বলে ৩২ রানের ঝড়ো এক ইনিংস থামে জহুরুল ইসলামের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে। আর উদ্বোধনী জুটির দুই ব্যাটসম্যানকেই ফেরান শুভাগত হোম। আউট হওয়ার আগে তামিম ৪টি চার ও একটি ছয়ে ইনিংস সাজান। তামিমের ফেরার পরেই রান আউট হয়ে কাঁটা পড়েন আফিফ হোসেন (৩)। এরপর ইরফান শুক্কুর তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করলে তাকে তুলে নেন সাকিব আল হাসান। শুক্কুর ফেরেন ২০ বলে ১৬ রান করে। বরিশালের দলীয় রান ৯১ হতেই একে একে ফেরেন পারভেজ, তামিম, আফিফ ও শুক্কুর। এরপর মাহুদুল ইসলাম অংকন ১১ বলে ১০ রান করে যখন ফিরছিলেন তখন বরিশালের স্কোরবোর্ডে রান ১২১। স্কোরবোর্ডে ১ রান যোগ হতেই বরিশালের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩৩ রান করা হৃদয় ফেরেন হাসান মাহমুদের শিকার হয়ে। হৃদয়ের ২৭ বলে ৩৩ রানের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও একটি ছক্কা। শেষ দিকে আর কেউ তেমন রান করতে না পারলে বরিশালের ইনিংস থামে ১৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২৫ রানে।