আবারও যাচাই-বাছাই

34

মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা করতে হবে
মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে আবারও জটিলতা তৈরি হয়েছে। গেজেটভুক্ত প্রায় ৫৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধার সব ধরনের তথ্য আবার যাচাই-বাছাই হবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতি উপজেলায় চার সদস্যের যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, যেসব মুক্তিযোদ্ধার তথ্য যাচাই-বাছাই হবে, তারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। সময়টা ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় অভিযোগ করছে, এসব মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্ত করার সময় ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০০২’ অনুসরণ করা হয়নি। এখন যা দাঁড়াচ্ছে তা হল, এই প্রায় ৫৫ হাজার গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাকে উপজেলাভিত্তিক যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে নিজেদের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। অন্যথায় তাদের গেজেট সনদ বাতিল হওয়ার পাশাপাশি ভাতাও বন্ধ হয়ে যাবে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক জহুরুল ইসলাম বলেছেন, অমুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের উদ্দেশ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০০২ থেকে ২০১৪-এই সময়ে বিএনপির শাসনামলে ৪৪ হাজার ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১১ হাজার মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত হয়েছেন। দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে উপজেলা কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে যে সংখ্যক ব্যক্তির নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উঠে এসেছে, তার চেয়ে অনেক বেশিসংখ্যক ব্যক্তি গেজেটভুক্ত হয়েছেন। এমনও দেখা গেছে, কেউ একটা আবেদন লিখে জমা দিয়েছেন, তিনিও মুক্তিযোদ্ধা বনে গেছেন। কাজেই আমরা মনে করি, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা আবারও যাচাই-বাছাই করার বর্তমান সিদ্ধান্ত সঠিক। নির্ভুল যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশত বছরের সামনে দাঁড়িয়েও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা তৈরি করতে না পারা দুঃখজনক। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা তাদের প্রাপ্য। কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কারণে নয়, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। এমনকি অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ পর্যন্ত নেননি। অথচ মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও অনেকে কারচুপির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। তারা নিশ্চয়ই গর্হিত কাজ করেছেন। এমনকি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থানকারী কিছু কর্মকর্তা পর্যন্ত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছিলেন চাকরিতে ২ বছর বেশি থাকার জন্য। এ পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন থেকেই জনদাবি রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিতে হবে। অর্থাৎ, বিধিবহির্ভূতভাবে যারা গেজেটভুক্ত হয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে অমুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দিতে হবে। দেরিতে হলেও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে-আমরা একে স্বাগত জানাই। তবে অমুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যেন এ প্রক্রিয়ায় বাদ না পড়েন। তেমনটি ঘটলে সেটি হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়ে যারা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাদের অবশ্যই ছেঁটে ফেলতে হবে তালিকা থেকে।