আন্দুলবাড়ীয়ায় হাইস্কুলে চাকরি শেষ হলেও কৌশলে বহাল থাকার চেষ্টা

35

দর্শনা অফিস/প্রতিবেদক, আন্দুলবাড়ীয়া:
চাকরির মেয়াদ ৪২ বছর পূর্ণ হওয়ার পরেও বয়স কমিয়ে প্রাধান শিক্ষকের যোগসাজসে বিজ্ঞানাগারের পিওন হারুন অর রশিদ বিভিন্ন কৌশলে চাকরিতে বহাল থাকার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারের পিওন হারুন অর-রশিদ স্মারক নম্বর ৫/৩২৪ দরখাস্ত মোতাবেক ০১/০৫/১৯৭৮ তারিখে ৭০ (সত্তর) টাকা বেতন ধার্য্য করে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কাজে যোগদান করেন। তখন তাঁর জন্ম ১২/০৫/১৯৬০ তারিখ অষ্টম শ্রেণি পাস সার্টিফিকেট জমা দিয়ে চাকরি জীবন শুরু করেন এবং তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (ভোটার আইডি কার্ডে) ১২/০৫/১৯৬০ জন্ম তারিখ রয়েছে। বর্তমানে তিনি একই বিদ্যালয়ে ল্যাব সহকারী অ্যাসিস্টেন্ট পদে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৭৪ সালে অধ্যায়ন ছিল এবং অষ্টম শ্রেণি থেকে পাস করে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে ১৯৮২-৮৩ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেন। তিনি সার্টিফিকেটের বয়স কমিয়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আরও জানা গেছে, এসএসসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী হারুন অর-রশিদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত চাকরির দাবিদার। তবে ভোটার আইডি কার্ডের বয়স এবং চাকরিতে যোগদানের তারিখ অনুযায়ী তাঁর চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি সার্টিফিকেট অনুযায়ী চাকরির বয়স বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি ভোটার আইডি কার্ডের বয়স কমানোর চেষ্টা করছে। এদিকে, গত ১১/০৫/২০২০ তারিখে তাঁর চাকরির মেয়াদ ৪২ বছর পেরিয়ে গেছে। তিনি আরও ৮-৯ বছর চাকরিতে বহাল থাকার জন্য প্রধান শিক্ষক ও এসএমসি কমিটির ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন।
এ বিষয়ে আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ আহম্মেদ তাজের নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি উথলী হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ থেকে ২০১৯ সালে আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেছি। আমি বিষয়টি জানি না, তবে এখন শুনছি যে হারুন অর রশিদ ০১/০৫/১৯৭৮ তারিখে এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।’
এদিকে, হারুন অর রশিদ জানান, আমার এখন কী করতে হবে?’ আইন অনুযায়ী আপনার চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই গরীবের পেটে লাথি মারা কি ঠিক? আবার বলেন, আপনি কী বলতে চাইছেন? আবার জানতে চাই, আপনি কত সালে এসএসসি পাস করেছেন? তখন তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে। আমি ১৯৮২-৮৩ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছি। সে অনুযায়ী আমার তো চাকরি আছে। তবে চাকরিতে যোগদানের তারিখ অনুযায়ী গত ১১/০৫/২০২০ তারিখে তাঁর চাকরির মেয়াদ ৪২ বছর পূর্ণ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার বলেন, ‘আমি নিয়ম-নীতিমালার আলোকে ছাড়া কোনো অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কোনো কিছু করব না।’ এ ব্যাপারে সচেতন এলাকাবাসীর অনেকে মন্তব্য করে বলেন, সরিষার মধ্য ভূত রয়েছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক, জেলা মাধমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেনতন এলাকাবাসী।