আনন্দ আর উদ্দীপনায় অটুট বন্ধনে পথচলার প্রত্যয়

133

আলমডাঙ্গার কুমারীতে চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক ভাষা পরিষদের জমকালো চড়ুইইভাতি
বিশেষ প্রতিবেদক:
‘ভাষায় আঞ্চলিকতা দোষের নয়, আমাদের ভাষার হবে না ক্ষয়’ প্রতিপাদ্যে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক ভাষা পরিষদের চড়ুইইভাতি উৎসব। গতকাল শনিবার দিনভর আলমডাঙ্গার কুমারী জমিদার বাড়িতে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক ভাষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক শামীম হাসান মিজির সভাপতিত্বে পরিচিতিপর্ব ও উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী সবাই নিজেদের পরিচয় ও তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ভাষা পরিষদের সদস্যদের বক্তব্যের পর নিজেদের কর্মকান্ড ও আগামী পরিকল্পনা তুলে ধরে বক্তব্য দেন সমন্বয়ক দেলোয়ার হোসেন বাপ্পি, জাহিদ হাসান, এস এম শাফায়েত, সুহাসিনী মনি, আশিক জ্যাকি ও ইসতিয়াক মিজান। তাঁরা চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক ভাষা পরিষদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করাসহ সামাজিক কর্মকান্ডে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাড়াদান ও এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বের ফাঁকে ফাঁকে বক্তব্য দেন দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর বার্তা সম্পাদক ও সিপিএস সভাপতি হুসাইন মালিক, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের ক্রীড়া সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খাইরুজ্জামান সেতু, চুয়াডাঙ্গা অটো স্টার ক্লাবের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম এ মারুফ, সাংস্কৃতিক কর্মী শাহ আলম আলো প্রমুখ। তাঁরা বলেন, ভাষাতত্ত্বের অনেক জটিল সমস্যার সমাধান আঞ্চলিক ভাষার সাহায্যে হতে পারে। আঞ্চলিক ভাষার রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রভাবে সাহিত্যের ভাষা গড়ে ওঠে। সাহিত্য-ভাষার ইতিহাসে আঞ্চলিক ভাষা পাওয়া যায়। ভাষাকে প্রাচীর দিয়ে সীমায়িত করা যায় না। এক জায়গার ভাষা অনায়াসে অন্য জায়গার ভাষাকে প্রভাবিত করে। চুয়াডাঙ্গা এলাকার সাধারণ মানুষের মুখের ভাষায় রয়েছে উচ্চারণ সচেতনতা ও শব্দ প্রয়োগে ঔচিত্যবোধ। এ জন্য এ ভাষা প্রসাদগুণসম্পন্ন ও সুষমাম-িত। এ অঞ্চলের মুখের ভাষার গতি সাবলীল ও বিশিষ্ট, বাগভঙ্গী খুবই জীবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী।
পরিচিতি ও আলোচনা পর্ব শেষে পরিবেশিত হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সাপ খেলা। বাঁশির সুর আর বাদ্যের তালে তালে নাচতে থাকেন সাপুড়ে। আর সেই সুরে একে একে ঝুড়ি থেকে বের হতে থাকে বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপ। পালাগানসহ বিভিন্ন গানের সঙ্গে সাপুড়েকে নাচতে হয়। আর সাপুড়ের ইশারায় ফণা তুলে সাপের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি সবাইকে দেয় অনাবিল আনন্দ। এরপর লোকগান ও আধুনিকগানে দর্শক এবং শ্রোতাদের মাতিয়ে তোলেন সাংস্কৃতিক কর্মী ও কণ্ঠশিল্পী হিরন উর রশিদ শান্ত, দেলোয়ার হোসেন বাপ্পি ও আশিক জ্যাকি। নাচে-গানে বেলা গড়িয়ে মধ্যাহ্নে চড়ুইইভাতিতে অংশ নেন সবাই। বিকেলের পর্বে জাদু প্রদর্শন করেন জাদুকর মোহাম্মদ আলী। এরপর অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ শেষে ফটোসেশন করা হয়।