আত্মহত্যার হাতছানি দিয়ে ডাকে যে বন

57

বিস্ময় ডেস্ক:
প্রাণ ও প্রকৃতি ধারণ করা দিগন্তবিস্তৃত এক একটি সবুজ বনভূমি শত-সহস্র বছর মানব সমাজের রসদ জোগায়। যে কারণে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে আজ রব উঠেছে- সবুজ বাঁচাও, মানুষ বাঁচবে। এর উল্টোটাও কিন্তু আছে। হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন! পৃথিবীতে এমন একটি বন আছে যা মানুষকে বাঁচায় না বরং মেরে ফেলে। বিশ্বব্যাপী এটি ‘আত্মহত্যার বন’ হিসেবে পরিচিত। বনটির অবস্থান জাপানের হনশু দ্বীপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ফুজি পর্বতমালার পাদদেশে। আয়তন ৩০ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি। জাপানি ভাষায় বনটির নাম আওকিগাহারা। অর্থ ‘সি অফ ট্রিজ’ বা গাছের সমুদ্র। কেউ কেউ একে ‘শয়তানের বন’ বলেও ডাকেন। ষাটের দশক থেকে এই বনে আত্মহত্যাকারীর হিসাব রাখা শুরু হয়। এরপর বিশ শতক পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচশ লোকের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এই বন থেকে। একুশ শতকে এসে বনে আত্মহত্যার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তবে সবচেয়ে বেশি মৃতদেহ পাওয়া যায় ২০০৩ সালে ১০৫টি। এরপর থেকে জাপানি পুলিশ আত্মহত্যাকারীর প্রকৃত সংখ্যা জনসম্মুখে প্রকাশ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে বর্তমানে ঠিক কতজন এই বনে আত্মহত্যা করেছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান জানা যায়নি। তবে সংখ্যা যাই হোক, আত্মহত্যা আগের থেকে বেড়েছে বৈ কমেনি। কিন্তু কেন? কী কারণে এই বনে মানুষ আত্মহত্যা করতে যায়? এই কেনোর উত্তর খুঁজতে অনেক গবেষক আদা-জল খেয়ে নেমেছেন। বছরের পর বছর গবেষণা করছেন। নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আজও সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি- কিসের তাড়নায়, কার হাতছানিতে এই বনে গিয়ে জীবনের ইতি টানার সাধ জাগে মানুষের। তবে গবেষণায় আত্মহত্যার সম্ভাব্য কিছু কারণ বেরিয়ে এসেছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘কুরোয় কাইজু’ নামক একটি উপন্যাস। এটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়। জাপানি লেখক সেইচো মাতসুমোতোর লেখা এই উপন্যাসে এক ব্যর্থ প্রেমিক যুগলের কাহিনী বর্ণনা করা হয়। উপন্যাসের শেষাংশে নায়িকা এই বনে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। উপন্যাসটি সেই সময় জাপানি সংস্কৃতিতে বিশেষ করে ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকাদের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। ওই সময় প্রেমে ব্যর্থ একাধিক যুগলের লাশ আওকিগাহারা বন থেকে উদ্ধার করা হয়।
এরপর ১৯৯৩ সালে অপর জাপানি লেখক ওয়াতারু তসুরুমুই ‘দ্য কমপ্লিট সুইসাইড ম্যানুয়াল’ নামে একটি বই লেখেন। প্রকাশের পর বইটি ভীষণ বিতর্কের সৃষ্টি করে। কারণ বইটিতে আত্মহত্যার বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। বইটিতে লেখক আওকিগাহারা বন আত্মহত্যার একটি সঠিক স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। লেখকের ভাষায় এ যেন এক সহজ পথ। ওই বনে গিয়ে ভয়ঙ্কর সবুজের মধ্যে হারিয়ে যাও। তারপর কোনো গাছে উঠে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়ো- শেষ করে দাও নিজেকে!