আত্মসমালোচনার তাগিদ

21

ধর্ম ডেস্ক: আমরা কারো সমালোচনা সইতে পারি না। কেউ প্রশংসা করলে আমাদের ভালো লাগে আর সমালোচনা করলে কষ্ট পাই। এটাই মানব চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। তবে ইসলামের শিক্ষা হলো নিজের দোষগুলো নিজেই খুঁজে বের করে তা সংশোধনের চেষ্টা করা। অন্যের দোষ-ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা না করা। কারণ নিজের দোষ-ত্রুটি নিজের সামনে প্রকাশ করার মাধ্যমে মানুষ তা জানতে পারে। ফলে তার হৃদয় ভালো কাজের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকতে পারে। তাছাড়া আত্মসমালোচনা দীনের ওপর দৃঢ়তা অর্জনের সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম। আত্মসমালোচনার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নেয়ামতগুলো জানতে পারে, স্রষ্টা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করতে পারে এবং নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায়ে উদ্বুদ্ধ হয়। সবচেয়ে বড় হলো আত্মসমালোচনার ফলে কোনো পাপ দ্বিতীয়বার করতে গেলে বিবেকে বাধা দেয়। ফলে পাপের কাজ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়ে যায়। দুনিয়াতে প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনো মন্দ কাজে লিপ্ত থাকে। তাই তা থেকে বাঁচার জন্য আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। প্রতিদিন মানুষ নিজেই নিজের পাপের হিসাব নেয়ার মাধ্যমে পুনরায় ওই পাপে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। এছাড়া ব্যক্তির মাঝে যে পাপবোধ সৃষ্টি হয় আত্মসমালোচনা তাকে ক্ষমা লাভের উপযুক্ত করে তোলে। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উচিত আগামীকালের (আখেরাতের) জন্য সে কী পাঠিয়েছে তা চিন্তা করা। আর তোমরা তাদের মতো হবে না, যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে। ফলে আল্লাহ তাদের আত্মভোলা করে দিয়েছেন। নিশ্চয় তারা ফাসেক।’ ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করার আগে নিজের কাছে জবাবদিহি কর। আত্মসমালোচনা আমাদের পার্থিব জীবনে দায়িত্বশীল করে, পরকালীন জবাবদিহিতার চিন্তা বাড়ায় এবং বিবেককে শাণিত করে। করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভে সাহায্য করে। সর্বোপরি জীবনের উচ্চতম লক্ষ্যকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার কাজে সর্বদা প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করে। তাই প্রত্যেক মুমিনের জন্য জরুরি নিজের বিবেকের কাছে নিজের কাজগুলো যাচাই-বাছাই করা। সবচেয়ে বড় আদালত হলো মানুষের বিবেকের আদালত। এই আদালত কোনো বিষয়কে ছাড় দিলে আশা করা যায় পরকালেও তা ছাড় পাবে। এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন আত্মসমালোচনা।