আত্মপ্রদর্শনী ও ইসলাম

20

ধর্ম ডেস্ক
আত্মপ্রদর্শনী বা নিজেকে উপস্থাপন করা মানুষের চিরন্তন প্রবৃত্তি। মানুষ যে কোনো ভালো কাজ করুক, যে কোনো ইবাদত করুক তা লোকে দেখুক এবং এর জন্য লোকেরা তার প্রশংসা করুক-এমন ইচ্ছা থেকেই মানুষের মধ্যে আত্মপ্রদর্শনীর বাসনা জšে§। ইসলামে এ কাজটি নিন্দনীয়। কারণ আত্মপ্রদর্শনীর মধ্যে অহমিকা, আত্মম্ভরিতা ও দম্ভের বীজ লুকিয়ে থাকে। আর আত্মম্ভরিতা ও অহমিকা মানুষকে মনুষ্যত্বের পর্যায় থেকে অমানুষের পর্যায়ে নিয়ে যায়। অহংকার পতনের মূল। একবার কারো মধ্যে অহংকার ঢুকলে তা থেকে রেহাই পাওয়া দুষ্কর। আল্লাহ কোরানে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, ‘আল্লাহ অহংকারীকে ভালোবাসেন না।’ রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যার হৃদয়ে সামান্য সরিষা পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে যেতে পারবে না।’ আত্মপ্রদর্শনীকে কোরান-হাদিসের ভাষায় রিয়া বলা হয়। রিয়া মানুষের মনের ক্ষুদ্র এক কোণে লুকিয়ে থাকে এবং তাকে উই পোকার মতো খেয়ে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে ফেলে। তাই রিয়া সম্পর্কে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। ইবাদত-বন্দেগিতে সামান্য পরিমাণ রিয়া থাকলেও ওই ইবাদত কবুল হবে না। লোক-দেখানো ইবাদতকে শিরকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আর শিরককারীর কোনো ইবাদতই আল্লাহ কবুল করেন না।আজকাল আমাদের সমাজে আত্মপ্রদর্শনীর অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। মানুষের মধ্যে নিষ্ঠতাপূর্ণ আচারনিষ্ঠা নেই বললেই চলে। মানুষ বাইরে প্রকাশ করছে একটি আর তার ভেতরে বিরাজ করছে এর বিপরীত চিত্র। দান-সদকাসহ ইবাদতের নানা ধরন ও আঙ্গিকে আজ আত্মপ্রদর্শনী মহামারির রূপ ধারণ করেছে। বাহ্যত সমাজে দ্বীনদার লোকের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে নিষ্ঠাপূর্ণ ইমানদারের সংখ্যা বাড়েনি; বরং আগের চেয়ে কমেছে। লৌকিকতা আজ আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছেয়ে গেছে। নিরেট ইবাদতেও আজ লৌকিতার প্রাধান্য। এ জন্য বর্তমানে মুসলমানদের ইমান ও আমলের সেই শক্তি আর নেই। মূলত আত্মপ্রদর্শনীর কথা তখনই আসে, মনে আসে যখন স ষ্টার সঙ্গে সৃষ্টির সম্পর্ক ভুলে গিয়ে মানুষ আত্মচিন্তায়, আত্মবিলাসে তথা আত্মগরিমায় মেতে ওঠে। তবে আত্মবিশ্লেষণ করলেই মানুষের এই ভুল ভাঙতে বেশি দেরি লাগে না। কারণ মানুষ কিসের ভিত্তিতে এই বড়াই করছে? তারা কোথায় থেকে এসেছে, কী ছিলÑসেটা একবার ভাবলেই আর আত্মপ্রদর্শনীর মনোবাসনা জাগবে না। প্রকৃত ইমানদার কখনো আত্মপ্রদর্শনীর পেছনে পড়ে না, নিষ্ঠতাপূর্ণ আমলই মুমিনের পুঁজি।