আতঙ্কে নুসরাতের পরিবার

22

তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার মামলায় ফাঁসির দ- পেয়েছেন ১৬ আসামির সবাই। এই রায়ে সারা দেশের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নুসরাতের পরিবার। অভিযোগ আছে, দ- ঘোষণার পরপরই আসামিদের কেউ কেউ নুসরাতের পরিবারের বাকি সদস্যদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন। আগেও তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। কখনো মোবাইল ফোনে আবার কখনো মৌখিকভাবে। রায়ের পর থেকে পরিবারটিকে পুলিশি পাহারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি পরিবারের সবার সারাক্ষণ পুলিশি পাহারায় থাকা কি সম্ভব? মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুসরাতের ওপর যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। নুসরাত তার প্রতিবাদ করেছিল, বিচার চেয়েছিল। আর সে কারণেই আসামিরা মিলে তাকে পুড়িয়ে মারেন। যাঁরা একজন মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারতে পারেন তাঁরা যেকোনো জঘন্য অন্যায় করতে পারেন। তাঁদের মধ্যে মানবিকতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, বিবেক কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। তদুপরি তাঁরা এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। তাঁদের অনেক অনুসারী রয়েছে, যারা আসামিদের ইঙ্গিতে আবারও যেকোনো জঘন্য ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই নুসরাতের পরিবার যে আশঙ্কা করছে, তা অমূলক নয়। নুসরাত হত্যার ঘটনাটি এখন শুধু একটি পরিবারের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিষয় নয়, সারা দেশের মানুষ এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। তারা দ্রুততম সময়ে এই খুনিদের বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন চায়। আর সেই রায় বাস্তবায়নের পরপরই খুনিদের অনুসারীদের ক্রোধ ও জিঘাংসা আরো বাড়বে, এমনটাই ধারণা করা যায়। তাই প্রশাসনকে যেকোনো মূল্যে নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। কারা হুমকি প্রদানের সঙ্গে জড়িত, কারা প্রতিশোধের পরিকল্পনা করছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সারা দেশে খুন-ধর্ষণ-অপহরণের মতো ঘটনা যেভাবে বাড়ছে, তা রীতিমতো আতঙ্কজনক। এর মধ্যে এমন সব খুনের ঘটনা ঘটছে, যাকে পৈশাচিক, লোমহর্ষক বা অন্য কোনো শব্দ দিয়েই বর্ণনা করা যায় না। এর লাগাম টানতে না পারলে এই সমাজে মানসম্মান নিয়ে বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়বে। আর এর অন্যতম উপায় হচ্ছে, এমন জঘন্য ঘটনার দ্রুততম বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। নুসরাতের মামলায় বিচারিক আদালত দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণা করেছেন, মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তাদের প্রত্যাশা উচ্চ আদালতেও বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং রায় কার্যকর হবে। প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে, জঘন্য খুনের ঘটনায় বিচার চাওয়া যেন একটি পরিবারের আরো বড় ভোগান্তির কারণ না হয়। তাহলে ভবিষ্যতে অনেকেই বিচার চাইতে ভয় পাবে। আমরা আশা করি, নুসরাতের পরিবারকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেওয়া হবে এবং হুমকিদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।