আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী

191

zia-ur-rahman1সমীকরণ ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম কমল। আলোচনা সভা, মাজার জিয়ারতসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে বিএনপি। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষের কাছে প্রথম পরিচিত হলেও পরে তিনি বাংলাদেশের একজন বরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে রাজনৈতিক ঐকতানে নিয়ে আসা ও সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর কারণে তিনি আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে আখ্যা পান। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনের মধ্য দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতির সূচনা করেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নতুন দর্শন উপস্থাপন করেন জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যান। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি দেশের মানুষের প্রিয় দল হিসেবে ‘৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ, ‘৯১ সালের পঞ্চম সংসদ ও ষষ্ঠ এবং অষ্টম সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। স্বৈরশাসন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অধীনে অনুষ্ঠিত ‘৮৬ সালের তৃতীয় ও ‘৮৮ সালের চতুর্থ এবং মহাজোট সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ‘৭১ সালে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা যেমন এ দেশের মুক্তিকামী মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল তেমনি ‘৭৫ সালে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির মুখে তখন সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসীন হন। পরে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে জিয়াউর রহমান চীনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সূচনা করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশকে নিয়ে ‘সার্ক’ গঠনের উদ্যোগ তারই। ওআইসিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর সংহতি জোরদার করার জন্য তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ পর্যন্ত পাঁচবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে বিএনপি। ১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মর্মান্তিকভাবে শাহাদাতবরণ করেন। তিনি একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা, অন্যতম সেক্টর কমান্ডার। মুক্তিযুদ্ধে সাহসী অবদানের জন্য স্বাধীনতার পর তৎকালীন সরকার তাকে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করে। জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচি : জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া আজ সকাল ১০টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শেরেবাংলানগরস্থ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে যথাসময়ে শহীদ জিয়ার মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দল ও অঙ্গ সংগঠনগুলো বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, পোস্টার প্রকাশ, রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা করবে আলাদাভাবে। দেশব্যাপী জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে জন্মদিন উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেছেন, শহীদ জিয়ার জন্মদিনে তার প্রদর্শিত পথেই আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে জনগণের ঘাড়ে চেপে বসা বর্তমান ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করতে হবে। মির্জা ফখরুল শহীদ জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।