আজ মধ্যরাতে প্রচার শেষ দৃষ্টান্ত হোক গাজীপুর সিটি নির্বাচন

181

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আর মাত্র দু’দিন বাকি। আজ মধ্য রাতে শেষ হচ্ছে প্রার্থীদের প্রচার কার্যক্রম। এখন পর্যন্ত সেখানে তেমন কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। বরং দুই প্রার্থী অনেকটা মিলেমিশেই যেন প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। একাধিকবার একত্রও হয়েছেন। তাই সেখানকার ভোটারদের মধ্যেও স্বস্তি বিরাজ করছে। আশা করা যায়, আগামী দিনগুলোও একই রকম শান্তিপূর্ণ থাকবে। গাজীপুরে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল গত ১৫ মে। প্রচার-প্রচারণাও তুঙ্গে উঠেছিল। শেষ মুহুর্তে সীমানা নিয়ে জটিলতায় দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত নির্বাচন স্থগিত করেন। পরবর্তীকালে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হয় এবং আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচনের নতুন এই তারিখ নির্ধারিত হয়। আশা করা হচ্ছে, এবার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এর পরপরই রয়েছে বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। সেসব স্থানে রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তারপরই বছরের শেষ দিকে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সারা দেশেই একধরনের নির্বাচনী হাওয়া বইছে। নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতিও ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ায় গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ জোরদার হয়ে উঠেছে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গাজীপুরে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে। তাই দুটি দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও নির্বাচনী কর্মকা-ে অংশ নিচ্ছেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে শুধু গাজীপুরের নয়, সারা দেশের রাজনীতি সচেতন মানুষের বিশেষ মনোযোগের বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতীয় গণমাধ্যমেও গাজীপুরের নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, পরবর্তী নির্বাচনগুলো কেমন হবে তার ইঙ্গিত পাওয়া যাবে এই নির্বাচন থেকে। বিএনপি নেতৃত্ব ঘোষণাই করেছেন, গাজীপুর নির্বাচন দেখে পরবর্তী নির্বাচনগুলোর ব্যাপারে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন। সেদিক থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য এটি একটি অগ্নিপরীক্ষা। এই নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী প্রার্থীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগও করছেন। তার মধ্যে একটি বড় অভিযোগ হলো, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপির কর্মীদের অযথা হয়রানি করছে। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া যেসব অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনের আগে ও পরে যাতে কোনো সহিংসতা না হয় সে জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অর্থের লেনদেন যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও যথেষ্ট পরিমাণে সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আমরা আশা করি, গাজীপুর সিটির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলোর জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।