আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস

31

সমীকরণ প্রতিবেদন:
আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। জাতিসঙ্ঘ কর্তৃক ২০০৭ সাল থেকে সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে গণতন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি এবং গণতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত করার জন্য প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘অংশগ্রহণ’। গণতন্ত্রে আইন প্রস্তাবনা, প্রণয়ন ও তৈরির ক্ষেত্রে সব নাগরিকের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ রয়েছে, যা সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হয়ে থাকে। গণতন্ত্র বলতে কোনো জাতিরাষ্ট্রের (অথবা কোনো সংগঠনের) এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে নীতিনির্ধারণ বা সরকারি প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিক বা সদস্যের সমান ভোটাধিকার থাকে। দিনটিতে জাতিসঙ্ঘ তার সব সদস্য রাষ্ট্রকে নিজ নিজ জনগণের মাঝে গণতন্ত্রের গুরুত্ব, তাৎপর্য, নীতি ও আচরণসহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে গণসচেতনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস প্রতিটি দেশের সরকারকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার তাগাদা দিয়েছেন। একই সাথে তিনি যেসব দেশ গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
পটভূমি :
১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকদের মধ্যে সংলাপের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ‘ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন’ (আইপিইউ) গণতন্ত্র বিষয়ে ‘ইউনিভার্সাল ডিকারেশন অন ডেমোক্র্যাসি’ নামের একটি প্রস্তাব আনে। তাতে গণতন্ত্রের নীতি, আদর্শ, উপাদান, গণতান্ত্রিক সরকারের চর্চা এবং গণতন্ত্র সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরির বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়। ফ্রান্সের এই প্রস্তাবেরও আগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়। ফিলিপাইনে ফার্ডিনান্ড মার্কোজের ২০ বছরের স্বৈরশাসনের পতনের মধ্য দিয়ে দেশটিতে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর এ সম্মেলন হয়। সম্মেলনের নাম ছিল ‘দি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন নিউ এন্ড রিস্টোরড ডেমোক্র্যাসিজ বা আইসিএনআরডি’। ২০০৬ সালে আইসিএনআরডির ষষ্ঠতম সম্মেলনটি হয় কাতারের রাজধানী দোহায়। কাতারের এই সম্মেলনে গণতন্ত্রের মৌলনীতি ও মূল্যবোধ কার্যকরকরণ ও সম্প্রসারণে একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। এর অংশ হিসেবে একটি উপদেষ্টা বোর্ডও গঠন করা হয়। বোর্ডে কাতার একটি ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’-এর প্রস্তাব আনে। পরবর্তীতে কাতারের নেতৃত্বে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। সেই সাথে জাতিসঙ্ঘভুক্ত সদস্য দেশগুলোর কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ ও প্রস্তাবও আহ্বান করা হয়। পরে ফ্রান্সের আইপিইউ ১৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক দিবস হিসেবে নির্ধারণে প্রস্তাব করলে প্রস্তাবটি ২০০৭ সালের ৮ নভেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
বিশ্বের বহু দেশের মতো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও সঙ্কটের মুখে রয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। গেল সংসদ নির্বাচন সঙ্কটকে আরেক দফা বাড়িয়ে দিয়েছে। জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠিত হয়নি অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি। সরকারি দলের ব্যাপক প্রভাবে বিরোধী দলগুলো একরকম কোণঠাসা অবস্থায় পরে আছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি আজ বিকেলে দেশে গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করবে। কয়েকটি রাজনৈতিক দল সেমিনারেরও আয়োজন করেছে।