আইসিসির নিষেধাজ্ঞা

18

সাকিব আরও উজ্জ্বলতা নিয়ে ফিরে আসুক
বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ। আসন্ন ভারত সফরে খেলতে পারবেন না বাংলাদেশ দলের কা-ারি সাকিব আল হাসান। এমনকি আগামী বছরের ১৮ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তিনি খেলতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক জুয়াড়িরা সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি তা গোপন করায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য সাকিবকে নিষিদ্ধ করেছে। সাকিবের সহযোগিতায় সন্তুষ্ট হয়ে আইসিসি পরে তাঁর নিষেধাজ্ঞা শর্ত সাপেক্ষে এক বছর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে আগামী বছরের ৩০ অক্টোবর থেকে আবার খেলা শুরু করতে পারবেন সাকিব। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সাকিব ভুল করেছে। তা সত্ত্বেও আমরা সাকিবের সঙ্গে আছি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবির এ ক্ষেত্রে করার কিছুই নেই। তার পরও তাঁরা বলেছেন, সাকিবকে তাঁরা সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবেন। আইসিসি যদি তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে, তাহলে হয়তো সাকিবের পক্ষে আরো আগেই মাঠে নামা সম্ভব হবে। আমরা তা-ই প্রত্যাশা করি। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী প্রত্যেকের কাছে এই সংবাদটি ছিল একটি বড় আঘাতস্বরূপ। খবরটি জানা যায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পর। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার মনে করেন, আজকের (মঙ্গলবার) দিনটি ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন।’ সন্ধ্যায় সাকিবের অনেক সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন মিরপুর মাঠে। বৈঠক থাকায় বোর্ড কর্মকর্তারাও ছিলেন সেখানে। সাকিবও গিয়েছিলেন। সাকিবের অনেক সমর্থক সংবাদটি শুনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তাঁরা আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্লোগানও দিতে থাকেন। রাতে সেখানেই সংবাদ সম্মেলন করেন সাকিব আল হাসান। তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে আইসিসির শাস্তি মাথা পেতে নেন এবং জানান ‘আরো শক্তভাবে’ ফিরে আসার প্রতিজ্ঞার কথা। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘ভেঙে পড়ার কোনো কারণ নেই। আমরা পাশেই থাকব।’ বাংলাদেশের এমন দুঃখের দিন আগেও এসেছিল। ছয় বছর আগে ম্যাচ পাতানোর অপরাধে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। সেবার সাক্ষ্য দিয়ে আইসিসিকে সহযোগিতা করেছিলেন সাকিব আল হাসান। এবারও সহযোগিতা করেছেন আইসিসিকে, তবে তা নিজেরই বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে। যত দূর জানা যায়, আন্তর্জাতিক জুয়াড়ি দীপক আগরওয়াল অতীতে বিভিন্ন সময় সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সাকিব বরাবরই তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু আইসিসিকে সে ব্যাপারে কিছু জানাননি। আইসিসির আইনে এই না জানানোটাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। আর সে কারণেই এই শাস্তি। আইসিসির আইনেও প্রদত্ত শাস্তি প্রত্যাহার করার বিধান নেই। তা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময়ের ভালো আচরণ বিবেচনায় নিয়ে যদি কিছু করার সুযোগ থাকে, তা করা হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। সাকিব শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনেও একটি প্রিয় মুখ। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তিনি অনেক কিছু দিয়েছেন। অনেক উপলক্ষে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশকে গৌরবান্বিত করেছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও তিনি বাংলাদেশকে আরো গৌরবান্বিত করবেন।