আঁখি তারা ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

59

নিজস্ব প্রতিবদেক:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের আঁখি তারা জেনারেল হাসপাতাল নামক ক্লিনিকে সিজারের পর আমেনা খাতুন (৩২) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আমেনা খাতুনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে আঁখি তারা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আমেনা খাতুনের অচেতন দেহ নিয়ে রাজশাহী যাওয়ার সময় পথের মধ্যে নাটোরের লালপুরে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তখন তাঁরা সেখানকার একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আমেনা খাতুন আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের জেহালা মদন বাবুর মোড় এলাকার আনারুল ইসলাম সোহেল মাস্টারের স্ত্রী।
জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে অন্তঃসত্ত্বা আমেনা খাতুনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের আঁখি তারা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর দেড়টার দিকে আঁখি তারা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে আমেনা খাতুনের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। অপারেশন সম্পন্ন হলেও আমেনা খাতুনের শরীরের অস্ত্রোপচারের স্থান থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে পারেননি চিকিৎসকেরা। এ সময় জরুরি ভিত্তিতে তাঁর শরীরে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। তবে নবজাতক সুস্থ আছে। এ ঘটনায় প্রসূতির জ্ঞান না ফেরায় গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন হাসপাতালের গাইনি কনসালট্যান্ট ডা. হোসনে জারি তহমিনা আঁখি। এরপর পরিবারের সদস্যরা আমেনা খাতুনকে নিয়ে রাজশাহী যাওয়ার সময় পথের মধ্যে নাটোরের লালপুরের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেন। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে, হাসপাতাল সড়কের আঁখি তারা জেনারেল হাসপাতালে গেলে সেখানে কোনো চিকিৎসককে না পাওয়া গেলেও দুজন নার্স ও একজন আয়ার দেখা মেলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্লিনিকের আয়া বলেন, তাঁদের ক্লিনিকে অপারেশন হয় এবং তিনি মৃত্যুর ঘটনাটি জানতে পেরেছেন, তবে কোথায় মৃত্যু হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি আরও জানান, অপারেশন থিয়েটারে ডা. হোসনে জারি তহমিনা আঁখি ও তাঁর স্বামী এনেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট ডা. গোলাম মুর্শিদ ডালিম ছিলেন।
আমেনা খাতুনের বড় চাচা সিদ্দিক রহমান জানান, আমেনা খাতুনের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা তাঁদের জানান এবং তাঁর শরীরের দ্রুত রক্ত দেওয়ার কথাও জানান। সন্ধ্যা সাতটার দিকে চিকিৎসকেরা আমেনা খাতুনকে অচেতন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে রেফার্ড করেন। অচেতন অবস্থায় তাঁকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহীর উদ্দেশে নেওয়া হয়। পথের মধ্যে সন্দেহ হলে নাটোর লালপুরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকেরা আমেনা খাতুনকে মৃত বলে জানান। তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমেনা খাতুনকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় থেকে মৃত ঘোষণা করা পর্যন্ত একই অবস্থায় দেখেছি। আমার মনে হয়, আমেনা খাতুন চুয়াডাঙ্গার ক্লিনিকে থাকতেই মারা গেছে।’
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে ডা. হোসনে জারি তহমিনা আঁখির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে, আঁখি তারা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক সেলিম রেজার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।