অহঙ্কার সব মন্দ আচরণের মূল

235

ধর্ম ডেস্ক: নিজকে বড় মনে না করে ছোট মনে করাই বিনয়। উত্তম চরিত্রের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে এই বিনয়। এটা উত্তম চরিত্রের মূল। হাদিস শরীফে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য নিজেকে নিচু করে আল্লাহ তাকে উঁচু করে দেন মুসনাদে আহমদ। দুনিয়ার জীবনে মানুষকে সর্বদা নিজের বড়ত্বের চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিয়ে জীবন অতিবাহিত করা উচিত। মনে রাখবেন, আপনার যা কিছু আছে সব আল্লাহর দান। যখন ইচ্ছা করেন তিনি তা ছিনিয়েও নিতে পারেন। আপনার নিজস্ব কোনো গুণ নেই। আল্লাহতায়ালা অন্যদের অনেক গুণ ও বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। এভাবে নিজেকে বড় মনে না করার নামই বিনয়। বিনয়ের বিপরীত হচ্ছে অহঙ্কার। এটা হচ্ছে সব মন্দ আচরণের মূল। অহঙ্কার এড়িয়ে চলতে কোরান-হাদিসে প্রচুর নির্দেশনা এসেছে। অহঙ্কারী বেহেশতে যাওয়া তো দূরের কথা সে বেহশতের গন্ধও পাবে না বলে ঘোষণা রয়েছে। বলা হয়েছে, অহঙ্কার সব পতনের মূল। বিনয় দ্বারা মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এ জন্য ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, সুন্দর ব্যবহারের মূল হচ্ছে বিনয়। পক্ষান্তরে দুর্ব্যবহারের জড় হলো অহঙ্কার। দুনিয়ার জীবনে কেউ যদি আত্মমুগ্ধতা ও অহঙ্কার এ দুই প্রবণতা পরিত্যাগ করে বিনয় অর্জনের চেষ্টা করে তাহলেই সে সফল হবে। অভিজ্ঞ আলেমদের অভিমত হলো, বিনয় অর্জনের গুণ নিজের মাঝে আনয়নের পূর্বে নিজের হাকিকত সম্পর্কে চিন্তা করা। সেটা হলো, আপনি কী? কীভাবে আপনার সৃষ্টি? কোরানে কারিমে আল্লাহতায়ালা দুই শব্দে মানুষের হাকিকত বলে দিয়েছেন। যদি মানুষ এতটুকুই যদি চিন্তা করে তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে তাহলে তার সব অহঙ্কার দূর হয়ে যাবে। তার সৃষ্টির মূলে তো রয়েছে এক ফোঁটা বীর্য। অন্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, আমি কি তোমাদের এক নিকৃষ্ট ও গান্দা পানি থেকে সৃষ্টি করিনি? যদি মানুষ তার মূল সম্পর্কে চিন্তা করে তাহলে তার মস্তিষ্কে অহঙ্কার আসতে পারে না। তেমনি যদি তার শেষ পরিণতি নিয়ে ভাবে যে, যখন তার মৃত্যু হবে তখন তার প্রিয়জনরাও তাকে ঘরে রাখবে না। কারণ ঘরে রাখলে পচে যাবে এবং দুর্গন্ধ বের হবে। সুতরাং কবরে দাফন করে আসবে। তো এই যখন শুরু ও শেষ তাহলে কীসের বড়াই? কী নিয়ে অহঙ্কার?