অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট

27

বাজারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিন
পেঁয়াজ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট যা করছে, তা জুয়া-মাদকের চেয়ে কম অপরাধ নয়। এতে সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপে ততটা জোর দেখা যাচ্ছে না। মিয়ানমার থেকে এরই মধ্যে শত শত টন পেঁয়াজ দেশের বাজারে প্রবেশ করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেখা যায়, সব খরচসহ এই পেঁয়াজের দাম পড়ে কেজিপ্রতি ৪৩ টাকা। কিন্তু বাজারে পেঁয়াজের দাম এখনো ১০০ টাকার ওপরে। অভিযোগ রয়েছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা আমদানি করা পেঁয়াজ পর্যন্ত গুদামজাত করে ফেলছেন। গত বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌর এলাকায় রড-সিমেন্টের এক গোডাউন থেকে পাঁচ টন পেঁয়াজ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ রকম লঘু শাস্তি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা আদৌ সম্ভব হবে কি? ভারতে এ বছর বন্যায় পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে তারা রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। আর সেই সুযোগ নিয়েছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশ তো শুধু ভারত থেকেই পেঁয়াজ আমদানি করে না। মিয়ানমার, চীন, তুরস্ক, মিসরসহ আরো অনেক দেশ থেকেই পেঁয়াজ আসে। আমদানি চলছেও। সরকারিভাবেও ৪৫ টাকা কেজি দরে ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। তার পরও দাম কমছে না কেন? কারণ একটাইÍপেঁয়াজ গুদামজাত করে স্বাভাবিক সরবরাহ বিঘ্নিত করা হচ্ছে। কাজেই গুদামজাতকরণের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করতে হবে। বাজারে কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়। অর্ধশত ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি বাজারে কোনো প্রভাবই ফেলতে পারে না। ফলে ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলেই যেকোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন। জানা যায়, পেঁয়াজের পাশাপাশি চালের বাজারও অস্থির করার পাঁয়তারা শুরু হয়ে গেছে। কয়েক দিন আগে আদা-রসুনের ক্ষেত্রেও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। পবিত্র রমজান মাস এলেই বাজারে অনেক পণ্যের দাম যুক্তিহীনভাবে বেড়ে যায়। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজের দাম বেঁধে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। নির্ধারিত দাম কার্যকর করার মতো ব্যবস্থা করা না গেলে তাতে কোনো লাভ হবে কি? বাজারে হস্তক্ষেপ করার জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) নামের একটি সংগঠন থাকলেও বাজারে বলতে গেলে তার কোনো প্রভাবই নেই। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থাকলেও বাজারে অনৈতিক মুনাফাকারীদের বিরুদ্ধে সচরাচর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাহলে বাজারে এমন অনাচার নিয়ন্ত্রণের উপায় কী? আমরা মনে করি, সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে। টিসিবিকে আরো সক্রিয় করতে হবে। যেকোনো আপৎকালে যেন দ্রুত আমদানি, সরবরাহ এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রির মাধ্যমে সারা দেশের বাজারে প্রভাব রাখতে পারে, সেভাবে টিসিবিকে গড়ে তুলতে হবে। শুল্ক কমিয়ে ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে আমদানিকে উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।