অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন

127

ভোটের আগের রাত থেকে ২৪ ঘণ্টা সব ধরনের যান্ত্রিক যানবাহন নির্বাচনী এলাকায় বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। উল্লিখিত যানবাহনের মধ্যে রয়েছে বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো প্রভৃতি। দেশের ৩০০টি আসনে নির্বাচন হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে এক ইঞ্চি সড়কও থাকার কথা নয়। কিন্তু বিষয়টি কতটা বাস্তবসম্মত, তা কমিশন কিংবা সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা প্রয়োজন। তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সবচেয়ে অবাস্তব ও অযৌক্তিক দিক হলো ২৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ১ জানুয়ারি মধ্যরাত এই চার দিন মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি। অন্যান্য যানবাহন সাংবাদিকেরা নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করতে পারলেও এ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। উল্লেখ্য, আগের নির্বাচনগুলোতে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ থাকলেও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নিয়ে সাংবাদিকেরা সেটি ব্যবহার করতে পারতেন। এবারে ইসি জানিয়ে দিয়েছে, মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কোনো রকম ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। এর অর্থ হলো, যেসব সাংবাদিক ভোটকেন্দ্রের খবর সংগ্রহ করবেন, পরোক্ষভাবে তাঁদের কাজে বাধা সৃষ্টি করা। কেননা, প্রত্যন্ত অঞ্চল তথা অলিগলিতে বড় যানবাহন ঢুকতে পারে না বলেই সাংবাদিকেরা খবর সংগ্রহের কাজে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে থাকেন।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন কমিশন একের পর এক যে অযৌক্তিক ও খামখেয়ালিপূর্ণ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে, যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তার সর্বশেষ উদাহরণ বললেও অত্যুক্তি হবে না। নির্বাচন কমিশনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার পথ সহজ করা, যাতে তাঁরা নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। কিন্তু ইসির পূর্বাপর সিদ্ধান্তে মনে হচ্ছে তারা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করার চেয়ে পথ আগলে রাখতেই বেশি আগ্রহী। যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয় বাস্তবতার নিরিখে। কিন্তু ইসি মাথাব্যথার প্রতিষেধক হিসেবে মাথা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়াকেই শ্রেয় মনে করছে। নির্বাচনের দিনে যাতে কেউ ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য তারা প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেবে, এতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। বিআরটিএ বলেছে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে। কিন্তু এর আওতায় ব্যক্তিগত যানবাহন আসবে কি না, তা পরিষ্কার নয়। ধরা যাক, কারও আবাসস্থল চুয়াডাঙ্গা কিম্বা মেহেরপুর কিন্তু তাঁর ভোটকেন্দ্র অন্য জায়গায়। সব ধরনের যান্ত্রিক যানবাহন বন্ধ থাকলে তাঁর পক্ষে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব হবে না। নির্বাচন কমিশনের এই নিষেধাজ্ঞা বিরোধী দলের সভাসমাবেশের সময় সরকারের যানবাহন বন্ধ রাখার অপকৌশলের মতো কোনো পদক্ষেপ কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। বিরোধী দলের সমাবেশে যাতে লোকজন না আসতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে পূর্বাপর সরকারগুলো এ ধরনের জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কেন নিরাপত্তার নামে যানবাহনের ওপর পাইকারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে? তাহলে কি নির্বাচন কমিশন চায় না যে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাক। সারাদেশে মোটরসাইকেল চার দিন ধরে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি শুধু অযৌক্তিক নয়, অবাস্তবও বটে।‘সবকিছু ঠিক আছে’ বলে নির্বাচন কমিশন আগে থেকে ভীতিকর অবস্থা তৈরি করে রেখেছে। ভোটের দিন পাইকারি সব ধরনের যান্ত্রিক যানবাহন বন্ধ করলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হবেন। অতএব এই অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাই।