অবৈধ পথে পশু আমদানি

57

চোরাকারবারিদের অবশ্যই রুখতে হবে
ঈদুল আজহা আসন্ন। গুরুত্বের দিক থেকে বড় নয়, তবে আয়োজনের দিক থেকে এটাই বাঙালি মুসলমানের বড় ধর্মীয় উৎসব। এ কারণেই এ উৎসব ‘বড় ঈদ’ নামে পরিচিত। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে অন্যবারের মতো ব্যাপক আয়োজনে এই ঈদ পালন সম্ভব হবে কি না বলা মুশকিল। তবু উদ্যাপনের কিছু প্রয়াস মানুষের মধ্যে থাকবেই। এর সঙ্গে সামাজিকতা ও ব্যাবসায়িক বিষয়ও জড়িয়ে আছে। বেশ কয়েক বছর ধরে দেশি গবাদি পশু দিয়ে ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে। এর একটি ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাবও আছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে অনেক কৃষক এখন গরু-ছাগল পালন করে। এসব বিক্রির টাকা দিয়ে নানা প্রয়োজন মেটে। এই অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার তাগিদ কৃষকদের আছে, খামারিদের আছে, সরকারকেও এটা টিকিয়ে রাখায় ভূমিকা পালন করতে হবে। গবাদি পশুর চোরাকারবার এ ক্ষেত্রে বড় বাধা। চোরাকারবারিরা অবৈধ পথে গবাদি পশু আমদানির মওকা খুঁজছে। চোরাপথে কোরবানির পশু যেন দেশে ঢুকতে না পারে সে জন্য সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে, কৃষকের স্বার্থে কঠোর হওয়াই উচিত। দেশে খামার ও গৃহস্থালি পর্যায়ে পর্যাপ্ত কোরবানির পশু আছে। করোনার কারণে চার মাস ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, হোটেল ও খুচরা বাজারে গরুর মাংস বিক্রিও কম হয়েছে। এ কারণে গবাদি পশুর, বিশেষ করে গরুর মজুদ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আছে। এটা চিন্তার কারণ বটে। গরু মজুদ থাকায় দাম ঠিকমতো পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে বিক্রেতারা চিন্তিত। এর মধ্যে চোরাপথে কোরবানির পশু দেশে ঢুকলে কৃষক ও খামারিদের জন্য বড় বিপদ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে দুই কোটি ৪৯ লাখ গরু, মহিষ ও ছাগল রয়েছে। এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এক কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি গবাদি পশু। ২০১৯ সালে কোরবানির জন্য প্রায় এক কোটি চার লাখ গরু, ছাগল ও মহিষের চাহিদা ছিল। এবার চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি পাঁচ লাখ গবাদি পশু। আমরা এখন দেশীয় উৎস থেকে পর্যাপ্ত গরু, মহিষ ও ছাগল পাই। আমদানির প্রয়োজন এখন আর পড়ে না। এটা অর্থনীতির জন্য ভালো দিক। এর সঙ্গে শুধু সাধারণ কৃষকের কিছু লাভের বিষয় জড়িত নয়, খামারে কর্মসংস্থানের বিষয়টিও জড়িত। সেসব স্বার্থ নিরাপদ করতে হবে। চোরাকারবারিরা যেন এ খাতকে অনিরাপদ করে তুলতে না পারে সেদিকে সরকারকে নজর রাখতে হবে।