অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার রাখতে হবে

23

উন্নয়নের ব্যাপক ঢাক-ঢোলের মাঝেই হঠাৎ করে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি আবিষ্কার হওয়ায় অনেক কিছুই বেরিয়ে আসছে। বেরিয়ে আসছে রাজনীতি ও প্রশাসনের ভয়াবহ বীভৎস চিত্র। তাও এটা ধৃত ক্যাসিনোর গড ফাদারদের স্বীকারোক্তির চিত্র। এই কেলেঙ্কারির গ্র্যান্ড ফাদার ও তাদের প্রশয়দাতারা ধৃত হলে আরও ব্যাপকতর ও লোমহর্ষক চিত্র বেরিয়ে আসবে। তাই ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির জের কোথায় গিয়ে ঠেকবে বলা কঠিন। অন্যদিকে, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে ক্যাম্পাসে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যার পর বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে বহু টর্চার সেল ও মাদকের আখড়ার চিত্র মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে একের পর এক। ফাহাদের হত্যাকান্ডে সমগ্র দেশবাসী শিহরিত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি নিষিদ্ধ করার এবং এ লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। ফরহাদ হত্যার ব্যাপারে জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অপরদিক, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হানাহানি, হত্যা, টর্চার সেল ও মাদকের আখড়া ইত্যাদি জাতিকে মেধাহীন করা আধিপত্যবাদীদের ষড়যন্ত্র কি-না তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের খুন ও নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা এবং অপরাধী শিক্ষার্থীরা ও তাদেরকে সহায়তাকারী শিক্ষকরা সকলেই মেধাবী। গত ১১ অক্টোবর জার্মান বেতারে প্রকাশ, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গত এক দশকে খুন হয়েছে দুই ডজন শিক্ষার্থী। আর স্বাধীনতার পর থেকে হিসাব করলে এই সংখ্যা দেড় শতাধিক। কিন্তু কোনো হত্যাকান্ডেই অপরাধীর সাজা কার্যকর হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচারই হয়নি।’ অপরদিকে, সম্প্রতি সম্পাদিত ভারতের সাথে অসম চুক্তির বিরুদ্ধে বিএনপিসহ দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে। তারা এই চুক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন এবং চুক্তিটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ ক্যাসিনোকান্ড, ফাহাদ হত্যা ও ভারতের সাথে অসম চুক্তির বিষয়টি বর্তমান রাজনীতিতে প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়ে রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ক্যাসিনোর মতো বড় রকমের জুয়া এতদিন ধরা পড়েনি কেন, দুর্নীতি বিরোধী অভিযান এতদিন পর কেন চালু করা হলো, এ অভিযান নিরপেক্ষভাবে চলবে কি-না, চললেও রাঘব বোয়ালরা ধরা পড়বে কি-না, ক্যাসিনোর মতো অন্য দুর্নীতির ক্ষেত্রে মাতামাতি হচ্ছে না কেন ইত্যাদিও ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। মিডিয়াতেও এসব সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে দেশের ক্লাবগুলোর যে ক্ষতি হয়েছে, ভাবমর্যাদা নষ্ট হয়েছে, তা থেকে অতীত গৌরবে ফিরে আসতে পারবে কি-না, পারলেও তা কতদিনে তা বলা দূরহ। অথচ এ দেশের খেলাধুলার উন্নয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থা হয় মূলত: ক্লাবগুলোর মাধ্যমেই। উল্লেখ আবশ্যক, ইন্টারনেটের মাধ্যমেও দেশে ক্যাসিনো জুয়া চলছে। ভারতীয় এক ব্যবসায়ী এই জুয়ার আসরটি নিয়ন্ত্রণ করছে। তাতে মত্ত হয়েছে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, তারা দলবেঁধে লাখ লাখ টাকার চিপস কিনছে বলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইনকিলাবে প্রকাশ। বাংলাদেশে ক্যাসিনো চালু হওয়ার আগে এ দেশের অনেকেই বিভিন্ন দেশে গিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ক্যাসিনো খেলতো। অথচ পবিত্র ইসলাম ধর্মে মদ-জুয়া নিষিদ্ধ। যা’হোক, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির মতোই চিচিং ফাঁক হতো, যদি মাদক বিরোধী অভিযান সঠিকভাবে হতো। তাহলেই পর্দার আড়ালে থাকা মাদকের গডফাদারদের বীভৎস চেহারা উন্মোচিত হতো।